শনিবার সকালে বাংলা যখন জেগেছে মহালয়ার মন্ত্রে ঠিক তখন দেশের রাজধানীতে তখন প্রতিবাদের রণডঙ্কা ঘুম উড়িয়েছে কেন্দ্রের শাসকদলের। আজ যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি যেন দুর্গ। ১০টি স্টেডিয়ামকে রাতারাতি জেলখানা বানিয়ে ফেলেছে পুলিশ (Delhi Police)। কড়াকড়ি করা হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের জন্যও। আন্দোলনকারীদের আটকাতে ৪৫টি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী দু’টি রাজধানী এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে পূর্ব রেল। সমর্থনকারীরা বিমানে করে আসছেন কিনা যদি কেউ নজর রাখা হচ্ছে।।বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দিল্লির আন্দোলনের মহড়া দেখেই কপালে চিন্তার ভাঁজ মোদি-শাহের সরকারের! রাজধানী জুড়ে মোতায়েন অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা সেনা। ইন্টারনেট বন্ধ করে যন্তর মন্তরের আশপাশের চত্বরে জারি ১৬৩ ধারা।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী গত জুলাই মাসে নিট বিক্ষোভের সময়ে আন্দোলনকারীরা যে সব গেস্টহাউস, লজগুলিতে ছিলেন বলে প্রশাসনের কাছে খবর ছিল সে সব জায়গার দখল নিয়ে নিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর রাস্তায় আজ অন্তত ৪০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। জনপথ-কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে প্রয়োজন মত একাধিক রাস্তা বন্ধ হতে পারে, তাই জনসাধারণকে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি না মিললেও অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা নিজেদের লক্ষ্যে অনড়। সঙ্গে রয়েছেন নেহা বোরা, ধ্রুব রাঠীরা। বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের কেউ কেউ আজকের সিজেপির কর্মসূচিতে হাজির থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ-সহ তিন দফা দাবি নিয়ে এর আগে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে ও পরবর্তীতে বেঙ্গালুরুতে কর্মসূচি করেছে সিজেপি। সমাজমাধ্যমের পোস্ট রি - পোস্ট থেকে শুরু করে কমেন্ট বক্সের উপচে পড়া মন্তব্য যন্তর মন্তর ২.০-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ককরোচদের অভিযোগ বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন শহরে তাদের সমর্থক ও নেতাদের অকারণে আটক করে রাখা হচ্ছে। '৫৬ ইঞ্চি ভয় পেয়েছে' বলে প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে চলেছেন অভিজিতরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ট্রেন মেট্রো বাস সহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে যদি স্তব্ধ করে কার্যত এমার্জেন্সি পিরিয়ডের মত একটা পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে শাসক সেক্ষেত্রে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচিতে কতজন যোগদান করতে পারবেন? এবারের এই আন্দোলন কি NEET আন্দোলনের উত্তাপ ছাড়িয়ে যাবে নাকি গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবার অনেক বেশি প্রস্তুত? আজ সকাল থেকে সবার নজর দিল্লির দিকে।















