প্রতিবাদ করলে আটক, আর প্রশ্ন করলে পুলিশি হেনস্থা! আর আন্দোলনের ডাক দিলে তা বন্ধ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ স্বৈরাচারী শাসকের। জ্ঞানেশকে বাঁচাতে মোদী শাহের সরকারের নির্লজ্জ ভূমিকায় তোপ দেগে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের লজ্জা বলে তীব্র আক্রমণ আশুতোষ (Ashutosh), সৌরভদের (Sourav)। শনিবারের প্রতিবাদ ঘিরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপহরণ করা হয়েছিল এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন তিনি। একইভাবে ধ্রুব রাঠিকেও অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এবার সেই অভিযোগের সুর সিজেপিদের গলায়। থানা থেকে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিক বৈঠকে প্লেন থেকে তাঁদের তিনজনকে ‘অপহরণ’ করার অভিযোগ তুললেন সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা। পরপর এই অভিযোগ সামনে আসায় কেন্দ্রের ভূমিকা, দিল্লি পুলিশের ক্ষমতার ব্যবহার এবং দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে শিয়ালদহে AIDSO- র মিছিল, ভগবানপুরে আক্রান্ত SUCI

সাংবাদিক বৈঠকে অশুতোষ রাঙ্কা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে বলেন, “নরেন্দ্র মোদি ভারতের লজ্জা।” তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে পুলিশ ধস্তাধস্তি ও মারপিট করেছে। আন্দোলন শুরুর আগেই প্লেন থেকে তাঁদের তিনজনকে অপহরণ করা হয়। রাঙ্কার বক্তব্য, ইন্দিরা গান্ধীর আমলের জরুরি অবস্থার কথা তাঁরা শুনেছেন, কিন্তু গত ৭২ ঘণ্টায় মোদি সরকার যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তা জরুরি অবস্থার সময়কার ঘটনাকেও ছাপিয়ে যাওয়ার মতো। তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপিকে নির্বাচনে জেতানোর স্বার্থে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে যে কোনও মূল্যে রক্ষা করতে চাইছে মোদি সরকার। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই যদি প্রতিবাদীদের আটক করা হয়, তবে গণতন্ত্রে বিরোধী স্বর কোথায় দাঁড়াবে?

সৌরভ দাসও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কোনও নথি ছাড়াই পুলিশ তাঁদের প্লেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তাঁদের ফোন হ্যাক করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সৌরভের বক্তব্য, সরকার চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারত। কিন্তু তার পরিবর্তে প্রতিবাদীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন আলোচনার বদলে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে সৌরভ দাস বলেছেন, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল, বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছিল এবং রাজধানীতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার সময়ও দিল্লি পুলিশের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু ছিল বলে অভিযোগ করেন রাঙ্কা। এই আচরণকে অমানবিক বলে আক্রমণ করেন তিনি। সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও যদি প্রশাসন সংবেদনশীলতার পরিচয় না দেয়, তবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: একনায়কতন্ত্রের শেষের শুরু, ঠাকুমার শেষকৃত্যে যাওয়ার আগে হুঁশিয়ারি অভিজিতের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে প্রিজন ভ্যানের ঘটনা থেকে শুরু করে ধ্রুব রাঠি ও সিজেপি নেতৃত্ব সকলেরই মুখে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ। রাজধানীর সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। সিজেপির অভিযোগ, গণতন্ত্রে প্রতিবাদকে মোকাবিলা করার পথ হওয়া উচিত আলোচনা ও জবাবদিহি, আটক ও ভয় দেখানো নয়। মোদি সরকার যদি সত্যিই গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ হয়, তবে এই অভিযোগগুলির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত বলেই দাবি দলের নেতৃত্বের।