অভিজিৎ দীপকের (Abhijeet Dipke) ঠাকুমার মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন দিল্লি পুলিশ। তাকে জানানো হয়নি যে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর সংবাদ। এমনটাই অভিযোগ তুললেন দীপকের বাবা-মা। তাদের দাবি, বারবার চেষ্টা করেও দীপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। দিল্লি পুলিশের তরফে বলা হয়েছিল, মানবিকতার স্বার্থে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁকে সবরকম সহায়তা করা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা পুরোটাই উল্টো। শনিবার পর্যন্ত ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আহ্বায়ককে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয় তাকে পরিবার সঙ্গে যোগযোগ করতে দেওয়া হয়নি। ঠিক এমনটাই ভূমিকা ছিল দিল্লি পুলিশের।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসচিবকে সরানো হয়নি কেন, অভয়া-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ অনিকেত
দীপকের বাবা ভগবান দীপকে জানান, ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বারবার চেষ্টা করেও কোনও উত্তর পাননি তাঁরা। তাঁর কথায়, “আমাদের সঙ্গে ওর কোনও যোগাযোগ হয়নি। ফোন করেছি, অনেক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি।” দিল্লি পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভগবান বলেন, ছেলেকে যদি ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়ে থাকে, তা হলে সে এখনও বাড়ি ফিরল না কেন? তাঁর দাবি, দিল্লি থেকে সরাসরি বিমান থাকলেও ছেলে ফেরেনি। এমনকি দীপকের বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁরাও দীপকের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে দাবি পরিবারের। ছেলের ফেরার অপেক্ষায় এখনও ঠাকুমার শেষকৃত্য করেননি পরিবারের সদস্যরা। ভগবানের কথায়, ছেলে বাড়ি ফিরবে বলে তাঁরা অপেক্ষা করছেন। তাঁর অভিযোগ, বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার পরেও দীপকেকে আগেই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা না করে তাকে আটকে রাখা হয়। দিল্লি পুলিশের নির্লজ্জতার জন্যই থমকে যায় দীপকের ঠাকুমার শেষকৃত্য।
দীপকের মা অনিতাও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ছেলে যদি ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পেত, তা হলে অবশ্যই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করত। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি। তাই ছেলের ফেরার অপেক্ষায় শেষকৃত্য স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শনিবার রাতে বিবৃতি দিয়ে দিল্লি পুলিশ জানায়, দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর তাঁকে জানানো হয়েছিল। শেষকৃত্যের সময়ও তাঁকে জানানো হয় এবং বাড়ি ফেরার জন্য সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের এই বক্তব্য মানতে নারাজ দীপকের পরিবার।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছেছিলেন দীপকে-সহ দলের তিন নেতা। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমান থেকেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর রবিবার সকালে দীপকে-সহ তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়। ৫০ হাজার টাকার বন্ডে এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গ হতে পারে, এমন কোনও কাজে অংশ নিতে পারবেন না।















