রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানোর পর এ বার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে যাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এখন আর রাজনৈতিক সভা, মিছিল কিংবা সংসদের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। অভিযোগের পরিসর বাড়িয়ে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছেও পৌঁছতে চাইছে বিরোধীরা। সেই কৌশলের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Supreme Court Chief Justice Surya Kant) সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ও মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)। তবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আর কোনও প্রতিনিধি থাকবেন কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। বিকেল চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে এই সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা। বিরোধী জোটের বক্তব্য, নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রধান বিচারপতিকে জানানো জরুরি।

আরও পড়ুন: শিল্প নিয়ে বৈঠকে শমীক-তাপস, বিনিয়োগ আনতে কালীপুজোর পর মুম্বই সফর শিল্পমন্ত্রীর

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে এসেছে। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। খাড়গের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির সামনে এই বিষয়গুলিই তুলে ধরা হবে। তাঁর কাছে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চাওয়ার বদলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝানোই তাঁদের লক্ষ্য। রাহুল গান্ধীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হয়েছে।

বিরোধীদের এই তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, একই অভিযোগ নিয়ে একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়া। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Droupadi Murmu) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বিরোধী জোটের দশ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সেই বৈঠকের পর নিজেদের বক্তব্য রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। এবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে জোট। সম্ভাব্য প্রতিনিধিদলে রাহুল ও খড়্গের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং এম এ বেবির নামও রয়েছে। তবে কারা শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন: নাগা ও কুকি সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর

আদালতে সাক্ষাতের পাশাপাশি সোমবার রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে বিরোধীদের। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল দিল্লিতে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের অভিযান ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নতুন কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ না হলেও, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তা স্পষ্ট। ফলে সোমবার বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রস্তাবিত সাক্ষাৎ দুই ঘটনাই একই দিনে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।

আরও পড়ুন: মাছের মধ্যেই লুকিয়ে হার্টের সুরক্ষা! পাতে রাখুন ভিটামিনে ভরপুর এই মাছগুলি

তবে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক তাৎপর্য যতই থাকুক, তার পরিণতি কী হবে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর এবার বিচারব্যবস্থার শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সামনে বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী জোট। এতে তাদের অভিযোগের প্রতি কতটা প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া মেলে, সেটাই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সোমবারের বৈঠক তাই কেবল একটি সাক্ষাৎ নয়; নির্বাচনকে ঘিরে চলতে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ক কোন পথে এগোবে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও এই দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।