সুস্থ ও সতেজ জীবনের জন্য খাদ্যতালিকায় মাছের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে মাছ অত্যন্ত কার্যকরী। চিকিৎসকদের মতে, মাছে থাকা পুষ্টিগুণ আমাদের হার্টকে সুরক্ষিত রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আরও পড়ুন: ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারবাড! শ্রবণশক্তি এড়াতে মেনে চলুন ‘৬০/৬০’ নিয়ম
আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন মাছ খেলে শরীরে ভিটামিনের জোগান বাড়বে এবং হার্টও থাকবে একদম চাঙ্গা:
রুই, কাতলা ও মৃগেল (ভিটামিন B12 এবং ওমেগা-৩)
বাঙালিদের প্রতিদিনের খাবারের পাতে রুই, কাতলা বা মৃগেল মাছের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই মাছগুলি যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই মাছগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন B12 থাকে, যা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এবং স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
ইলিশ মাছ (ভিটামিন D এবং ওমেগা-৩ এর পাওয়ার হাউস)
বাঙালির প্রিয় ইলিশ মাছ কেবল স্বাদেই সেরা নয়, এটি হার্টের যত্নে একটি মহৌষধ। ইলিশ মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন D থাকে, যা হাড় মজবুত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ইলিশে থাকা উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে দেয় এবং রক্তনালীতে চর্বি জমতে বাধা দেয়।
আরও পড়ুন: বার্লিন থেকে লন্ডন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ভারতের Gen Z-র পাশে প্রবাসী থেকে বিদেশি
সামুদ্রিক মাছ: স্যামন, টুনা ও ম্যাকেরেল (ভিটামিন D, B-কমপ্লেক্স এবং ওমেগা-৩)
হার্টের সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক মাছের জুড়ি মেলা ভার। বাজারে এখন স্যামন, টুনা বা ম্যাকেরেল বেশ সহজলভ্য। এই মাছগুলি ভিটামিন D, ভিটামিন B6 এবং B12 এর অন্যতম সেরা উৎস। সামুদ্রিক মাছে থাকা উপাদানগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
পাবদা ও ট্যাংরা (ভিটামিন A এবং ডি)
ছোট ও মাঝারি আকারের মাছ যেমন পাবদা বা ট্যাংরা পুষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই মাছগুলিতে ভালো পরিমাণে ভিটামিন A এবং ভিটামিন D পাওয়া যায়, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই মাছগুলি সহজে হজম হয় এবং এর চর্বিহীন প্রোটিন হার্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না।
আরও পড়ুন: মুক্তির পরেও স্বস্তি নেই! ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর
ছোট মাছ: মৌরলা, পুঁটি ও কাচকি (ভিটামিন A, D এবং ক্যালসিয়াম)
কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ যেমন মৌরলা ও চুনো মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। এই মাছগুলি চোখ ও হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন A, ভিটামিন D এবং ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস। ছোট মাছের ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান হৃদযন্ত্রের পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইনেও অনড় বিকাশরঞ্জন! ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ প্রত্যাহারে নারাজ
চিকিৎসকদের পরামর্শ
হার্ট ভালো রাখতে এবং ভিটামিনের সঠিক জোগান পেতে সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা উচিত। তবে মনে রাখবেন, মাছ অতিরিক্ত কড়া করে ভাজলে তার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা তেলে ঝোল, ভাপে বা স্টু করে মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।















