নিরামিষ পদে পনিরের কদর চিরকাল আলাদা। কিন্তু থালায় সাজানো সেই লোভনীয় পনির কি আদৌ আসল, নাকি পনিরের মোড়কে আপনি খাচ্ছেন ক্ষতিকর উদ্ভিজ্জ ফ্যাট এবং স্টার্চ? সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মীদের অভিযানে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—বাজার এখন দেদার বিকোচ্ছে ‘অ্যানালগ পনির’ (Analogue Paneer)। দেখতে অবিকল আসল পনিরের মতো হলেও এর পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণ মানুষ প্রোটিনের উৎস হিসেবে রোজ যা খাচ্ছেন, তা আসলে ডেকে আনছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আরও পড়ুন: এক সপ্তাহে একাধিকবার উত্তপ্ত SRFTI! ক্যাম্পাসের গেটে ফিরল গান্ধীর ছবি

অ্যানালগ পনির আসলে কী?

সাধারণত খাঁটি দুধের ছানা কাটিয়ে ঐতিহ্যবাহী উপায়ে পনির তৈরি করা হয়। কিন্তু এই অ্যানালগ বা কৃত্রিম পনিরে দুধের নামগন্ধও থাকে না। এটি তৈরিতে দুধের ফ্যাটের পরিবর্তে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয় সস্তা উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন পাম অয়েল), স্টার্চ বা শ্বেতসার, ক্ষতিকর স্টেবিলাইজার এবং কৃত্রিম প্রোটিন পাউডার। ১ কেজি খাঁটি পনির তৈরি করতে যেখানে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার দুধের প্রয়োজন, সেখানে এই কৃত্রিম পনির অত্যন্ত কম খরচে রাসায়নিকের সাহায্যে তৈরি করা যায়।

আরও পড়ুন: যাঁরা ফিরতে চান, ১৫ দিনের মধ্যে ফিরুন: দলত্যাগীদের বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর

শরীরে প্রোটিনের বদলে ঢুকছে বিষ!

চিকিৎসক ও ডায়েটেশিয়ানদের মতে, কেউ যদি প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে নিয়মিত পনির খান এবং অজান্তেই এই অ্যানালগ পনির গ্রহণ করতে থাকেন, তবে তিনি কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হন। উল্টে শরীরে ঢুকছে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট। এর ফলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতা দেখা দিতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিভারে চর্বি জমা অর্থাৎ ফ্যাটি লিভার এবং হজমের গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইডেনে অনুষ্ঠান থেকে ৩ হাজার ড্রোনের শো, পুজো ঘিরে রাজ্যের মেগা কর্মসূচি

আসল ও নকল পনির চেনার সহজ উপায়

চোখে দেখে আসল-নকলের ফারাক করা কঠিন হলেও, বাড়িতে কয়েকটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি আসল পনির চিনে নিতে পারেন:

১. হাতের তালুর চাপ (Mashing Test): পনিরের একটি ছোট টুকরো হাতের তালুতে নিয়ে জোরে চাপ দিন। খাঁটি পনির নরম হলেও সহজে ভেঙে বা গুঁড়ো হয়ে যাবে না। কিন্তু অ্যানালগ বা সিন্থেটিক পনির চাপ দেওয়া মাত্রই ঝুরঝুর করে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাবে।

২. টেক্সচার ও রাবারের মতো ভাব: খাঁটি পনির মুখে দিলে অত্যন্ত নরম ও মাখনের মতো মসৃণ অনুভূত হয় এবং চিবোতে হয় না। অন্যদিকে, অ্যানালগ পনির চিবানোর সময় অনেকটা রাবারের মতো টানের সৃষ্টি হয় এবং মুখে অতিরিক্ত তেলতেলে লাগতে পারে।

৩. গন্ধ পরীক্ষা (Aroma Check): আসল পনির নাকটির কাছে ধরলে দুধের একটি চমৎকার মিষ্টি ও তাজা সুবাস পাওয়া যায়। অ্যানালগ পনিরে দুধের কোনো সুগন্ধ থাকে না, বরং এটি গন্ধহীন হতে পারে কিংবা হালকা রাসায়নিক বা টক গন্ধ বেরোতে পারে।

আরও পড়ুন: বিয়ের কার্ড ছাপানো হয়েও হয়নি বিয়ে! পাত্রীপক্ষের প্রতারণা মেনে নিতে পারেননি কিশোর কুমার

৪. উপাদানের তালিকা (Ingredient List): প্যাকেটজাত পনির কেনার সময় সবসময় প্যাকেটের উল্টো দিকের ‘ইনগ্রেডিয়েন্টস লিস্ট’ ভালো করে লক্ষ্য করুন। উপাদানের তালিকায় যদি ভেজিটেবল ফ্যাট, পাম অয়েল, স্টার্চ-এর মতো শব্দ লেখা থাকে, তবে বুঝবেন সেটি আসল ডেয়ারি পনির নয়। ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস (FSSAI) অনুযায়ী এমন পণ্যের গায়ে ‘Imitation’ বা ‘Analogue’ পনির লেখা বাধ্যতামূলক।

খোলা বাজারের পনিরে কোনো লেবেল থাকে না, ফলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সবসময় বিশ্বস্ত ডেয়ারি শপ কিংবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্র্যান্ডের পনির কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।