চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল (nobel medeicine prize) পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। কার্ল ডেইসেরথ (৫৪), পিটার হেগম্যান (৭১) এবং জর্জ নেগল (৭৩)। অপ্টোজেনেটিক্সের গবেষণায় তাঁদের অবদানের জন্য পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার।
আরও পড়ুন: লক্ষ্য ইমরানের মুক্তি-সরকার পরিবর্তন! ইসলামাবাদমুখী মিছিল থেকে গ্রেফতার ২০০০, উত্তাল পাকিস্তান
নোবেল (Nobel Commitiee) কমিটির মতে, এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার এমন এক প্রযুক্তির পথ খুলেছে, যার সাহায্যে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে চালু বা বন্ধ করা যায়। মস্তিষ্কের জটিল কার্যকলাপ, স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের রহস্য বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘অপ্টোজেনেটিক্স’-এর ব্যবহার। গত বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি। তাঁদের গবেষণা ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ নিয়ে ছিল।
অপ্টোজেনেটিক্স কী?
অপ্টোজেনেটিক্স (Optogenetics) হল জীববিজ্ঞানের একটি আধুনিক ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে আলোর সাহায্যে জীবিত কোষের (বিশেষ করে নিউরন বা স্নায়ুকোষ) কার্যকলাপে পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই প্রযুক্তিতে আলোক-সংবেদনশীল বিশেষ কিছু প্রোটিন জিন প্রকৌশলের (Genetic Engineering) মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোষে প্রবেশ করানো হয়, যার ফলে আলো ফেলে সেই কোষগুলোকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়।
অপ্টোজেনেটিক্সের মাধ্যমে গবেষকেরা এখন সুনির্দিষ্ট ভাবে দেখতে পাচ্ছেন কী ভাবে কোষগুলির গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি পার্কিনসন্স, অ্যালঝাইমার্স এবং মৃগীর (এপিলেপ্সি) মতো জটিল ব্যাধির উৎস বুঝতে সাহায্য করছে। অন্য দিকে, চোখের রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা বা স্টারগার্ট ডিজিজের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, যাঁদের চোখের আলো-সংবেদনশীল কোষগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাঁদের রেটিনার অন্যান্য অবশিষ্ট কোষকে কৃত্রিম ভাবে আলো-সংবেদনশীল কোষে রূপান্তর করা যাচ্ছে। মার্কিন-জার্মান ত্রয়ীর গবেষণার উপর ভিত্তি করে অপ্টোজেনেটিক জিন থেরাপির মাধ্যমে ইতিমধ্যে অন্ধ মানুষের দৃষ্টিশক্তি আংশিক ফিরিয়ে আনার সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে।
ডেইসেরথ আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়ার্ড হিউজ মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী। হেগেম্যান বার্লিনের হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেগল সে দেশেরই ভুর্ৎসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল এককোষী শৈবালে ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামক একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন, যা কোষকে আলোর প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। পরবর্তী সময়ে ডাইসেরথ এই প্রোটিনটিকে স্নায়ুকোষের জন্য একটি আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট জীবন্ত কোষ বা নিউরনের কার্যকারিতা মিলিসেকেন্ডের নিখুঁত মাপে চালু বা বন্ধ করা যায়। নাগেল এবং হেগেমানের আবিষ্কার করা আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিনকেডাইসেরথ স্তন্যপায়ী প্রাণীর জীবন্ত মস্তিষ্কের নিউরনে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করেন। তিনি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অপটিক্স (আলোকবিদ্যা)-এর মেলবন্ধনে তিনি যে নতুন প্রযুক্তির জন্ম দেন, তাকেই বলা হয় অপটোজেনেটিক্স।
সোমবার স্টকহোমে তিন বিজ্ঞানীর এই পুরস্কার অর্থাৎ THE NOBEL PRIZE IN PHYSIOLOGY OR MEDICINE 2026-এ কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি।
আরও পড়ুন: সংশোধিত ফর্ম-৬ অনুমোদন করেনি আদলত, তথ্য খতিয়ে দেখার বার্তা 'সুপ্রিম' বিচারপতির
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক সাফল্য মস্তিষ্ক ও চোখের চিকিৎসায়। মস্তিষ্কের কোটি কোটি নিউরনের মধ্যে কোন রোগটির জন্য কোন নির্দিষ্ট নিউরোন-সার্কিট দায়ী, তা আগে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব ছিল।














