কলকাতা ৩৪°সে
ব্রেকিং
আর্থিক তছরুপের তদন্তে কাঁকুড়গাছির বহুতলে ইডি অভিযানসাতসকালে হুমায়ুনের বাড়িতে পুলিশ! ধরানো হল হাজিরার নোটিশ৫৪ বছর বয়সে প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষামন্ত্রীবেশি জ্ঞান দেবেন না! বিপ্লবী কমরেডদের তোপ দাগলেন সিপিএম বিধায়ক রানাসবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতাই সর্বপ্রধান, টেরেসার মৃত্যুবার্ষিকীতে মাদারহাউজে মমতাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর পর এবার ভাঙা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি! শিক্ষক দিবসে মন খারাপের চিত্রপুজোর রাতে কলকাতার আকাশে ড্রোন শো, মহালয়া থেকে মহাষ্টমী মেগা অনুষ্ঠান রাজ্য সরকারের!বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়লেন মেলোনি! উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি মোদিরঅতিবৃষ্টিতে তিলডাঙা -নিউ ফারাক্কার মাঝে রেললাইনে ধস, ব্যাহত NJPগামী ট্রেন চলাচলঅভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে তাণ্ডব! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাংসদেরআর্থিক তছরুপের তদন্তে কাঁকুড়গাছির বহুতলে ইডি অভিযানসাতসকালে হুমায়ুনের বাড়িতে পুলিশ! ধরানো হল হাজিরার নোটিশ৫৪ বছর বয়সে প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষামন্ত্রীবেশি জ্ঞান দেবেন না! বিপ্লবী কমরেডদের তোপ দাগলেন সিপিএম বিধায়ক রানাসবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতাই সর্বপ্রধান, টেরেসার মৃত্যুবার্ষিকীতে মাদারহাউজে মমতাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর পর এবার ভাঙা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি! শিক্ষক দিবসে মন খারাপের চিত্রপুজোর রাতে কলকাতার আকাশে ড্রোন শো, মহালয়া থেকে মহাষ্টমী মেগা অনুষ্ঠান রাজ্য সরকারের!বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়লেন মেলোনি! উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি মোদিরঅতিবৃষ্টিতে তিলডাঙা -নিউ ফারাক্কার মাঝে রেললাইনে ধস, ব্যাহত NJPগামী ট্রেন চলাচলঅভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে তাণ্ডব! পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সাংসদের
অন্যান্য

'এমন আমীর কই', উৎপল সিনহার কলম

'এমন আমীর কই', উৎপল সিনহার কলম

" যতক্ষণ শ্বাস রয়েছে 

  ততক্ষণই আশ 

  এই আসে তো এই 

চলে যায় ঈশ্বরে বিশ্বাস " 

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কিংবদন্তি আমীর খাঁ সুর দিয়ে ঈশ্বরকে ছোঁয়ার চেষ্টা করে গেছেন আমৃত্যু। তাঁর মাত্র ৬১ বছরের মহাজীবন, অকাল মৃত্যু, সবটাই সুরে সুরে গাঁথা।

মহাজনেরা বলেন, ব্রক্ষ্মজ্ঞান প্রাপ্তি হলে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। একেবারে চুপ করে যায়। অর্থাৎ ব্রক্ষ্মজ্ঞানপ্রাপ্ত মানুষের কাছে জাগতিক কথাবার্তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। শুধু কথাবার্তা নয়, জাগতিক সবকিছুই তখন তুচ্ছ বোধ হয়। এই যে চুপ করে যাওয়া, চুপ থাকা, স্তব্ধ হয়ে যাওয়া, এ সবই নাকি আসন্ন মৃত্যুর সংকেত ! জগতে থাকার প্রয়োজন যার ফুরিয়েছে, সে আর জগতে থাকবে কেন ? 

ব্রক্ষ্মজ্ঞান কী ? কীভাবে আসে এই জ্ঞান ? এর রহস্য কি ? সুরসাধক আমীর খানের কাছে ব্রক্ষ্মজ্ঞান এসেছিল সুরের হাত ধরে এবং তার কয়েকদিন পর তিনি মারা যান এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। ১৯৭৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার সাদার্ন এভিনিউ ধরে যখন তিনি আসছিলেন, তখন দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটা ঘাতক লরি তাঁর গাড়িকে দুমড়ে দেয়। শিল্পী মারা যান ঘটনাস্থলেই । সেই থেকে গোবরা সিমেট্রিতে ঘুমিয়ে আছেন তিনি। 

মৃত্যুর আগে তিনি টের পেয়েছিলেন তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে। একথা তিনি নিজেই জানিয়ে গেছেন। ব্রক্ষ্মজ্ঞান হলো পরম সত্যের উপলব্ধি , যা কোনো বই পড়ে শেখা বিদ্যা নয়। এটি এক অন্তর্নিহিত অনুভূতি। ব্রক্ষ্ম শব্দের অর্থ পরমাত্মা বা মহাবিশ্বের আদি শক্তি, আর জ্ঞান মানে পরম উপলব্ধি। নিজেকে এবং ঈশ্বরকে এক হিসেবে অনুভব করাই ব্রক্ষ্মজ্ঞান।

" অহং ব্রক্ষ্মাস্মি‌ " ( আমিই ব্রক্ষ্ম ) বা " তত্ত্বমসি " ( তুমিই সেই ) ইত্যাদি বেদান্ত বাক্যগুলোর প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করাই হলো ব্রক্ষ্মজ্ঞান লাভ। এই জ্ঞান প্রাপ্ত হলে মানুষের মন থেকে সমস্ত অজ্ঞানতা দূর হয়ে যায়। মানুষ প্রকৃতই মুক্তি লাভ করে। 

সঙ্গীতশিল্পী আমীর খাঁ তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক সকালে রেওয়াজে বসেছিলেন। গাইতে গাইতে হঠাৎই এক অকল্পনীয় সুর লাগলো গান্ধারে। তখন তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করছিলেন বিশিষ্ট তবলিয়া গোবিন্দ বসু। তাঁর দিকে তাকিয়ে শিল্পী বললেন, 

" ঔর জাদা দিন নেহি‌ , গোবিন্দ। ইয়ে গান্ধার জিসে লগ যাতা হ্যায় , ও ইনসান জাদা দিন রহেতা নেহি। " 

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে শ্রুতি আছে ২২ টি। এই হিসেবটা সপ্তক অনুযায়ী  ( সা রে গা মা পা ধা নি )  ৪   ৩   ২  ৪   ৪   ৩  ২  এইরকম। 

অর্থাৎ সা আছে ৪ টি, রে আছে ৩ টি, গা আছে ২ টি, মা আছে ৪ টি, পা আছে ৪ টি, ধা আছে ৩ টি এবং নি আছে ২ টি। এই ২২ টি শ্রুতির মধ্যে ১২ টি শ্রুত এবং ১০ টি অশ্রুত।

" ঝরা পাতাদের 

  মর্মর ধ্বনি মাঝে 

  কান পেতে শুনো 

  অশ্রুত সুরে 

  মোর এই গান বাজে " 

Sponsored

Merlin In Article

শুধুমাত্র আমীর খাঁ

স্তরের সুরসাধকেরাই পারেন সেই ১০ টি আপাত অশ্রুত শ্রুতি নিজের কণ্ঠে ধারণ করতে। কিন্তু সেই স্তরের সাধক তো প্রায় বিরল। বাকিরা সারাজীবন সঙ্গীত সাধনা করেও এই গুপ্ত ঐশ্বর্যের সন্ধান পান না। এখানেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশালতা। মহাসাগরসম এই গভীরতা উপলব্ধি করার জন্য মাত্র একটা জীবন যথেষ্ট নয়। আমীর খাঁ এই গূঢ় তত্ত্বের সন্ধান পেয়েছিলেন বলেই হয়তো সারাজীবন খেয়াল ছাড়া আর কিছু গাইতে চান নি।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

ঋষির মতো শান্ত ভঙ্গিতে মঞ্চে এসে বসতেন। চোখ বুজে সুর মেলাতেন। তারপর শুরু করতেন গান। যেন শান্ত সমাহিত এক সিদ্ধপুরুষ ধ্যানে বসেছেন। 

তিনি বলতেন, " নাগমা ওহি নাগমা হ্যায় যো রুহ সুনে অউর রুহ সুনায়ে " । এর অর্থ হলো, যে সঙ্গীত হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে উৎপত্তি লাভ করে স্পর্শ করেছে আত্মিক প্রশান্তিকে, সেই সঙ্গীতই প্রকৃত সঙ্গীত।  এককথায়,

Sponsored

Techno India In Article

হৃদয় গাইছে, হৃদয় শুনছে। হৃদয় হৃদয়কে গান শোনাচ্ছে। আত্মা গাইছে, আত্মা শুনছে। আত্মা গান শোনাচ্ছে আত্মাকে। এটাই সম্ভবত সুরসাধকের মহোত্তম উপলব্ধি। তিনি বলে গেছেন, " যে গান আমার হৃদয়কে স্পর্শ করে না, কেবলমাত্র শ্রোতাদের মনোরঞ্জনের জন্য সেই গান আমি গাইবো না " ।

Sponsored

Probe In Article

তাই তো তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক বিরল চরিত্র , যিনি কোনোকিছুর বিনিময়ে সুরকে লঘু হতে দেন নি। সুরের বিশুদ্ধতা রক্ষায় কোনোকিছুর সঙ্গে আপস করেন নি। 

ভাবতে ইচ্ছে করে, কী ছিল সেই গান্ধারে, যে গান্ধার চিরকালের মতো শিল্পীকে নিয়ে চলে গেলো অমরাবতীতে ! কেমন ছিল সেই স্বর, সেই সুর ? 

কোমল গান্ধার নয় নিশ্চয়। অনুমান করি, তা ছিল তার সপ্তকের শুদ্ধ গান্ধার। শোনা যায়, এই গান্ধার পরিপূর্ণরূপে যাঁর কণ্ঠে ধরা দেয়, তিনি নাকি মহাকালের ডাক স্পষ্ট শুনতে পান। শোনা যায়, শুদ্ধ গান্ধারে কণ্ঠ স্থিত হলে নাকি এক অলৌকিক আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে মাথার মধ্যে। যেভাবে কবিতার প্রথম লাইনটা আসে স্বর্গ থেকে ( শক্তি চট্টোপাধ্যায় ) , বাকিটা লেখেন কবি, তখন নাকি হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে ওঠে মগজে ! বড়ো ক্ষণস্থায়ী সেই আলো। যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ যেন একটা ঘোর লেগে থাকে। ঘোরের মধ্যে লিখে চলেন কবি। একসময় লেখা শেষ হয়। আলো নিভে যায়। তখন নিজের লেখাই যেন চিনতে পারেন না কবি ! কি একটা ক্ষমতা যেন ভর করে সেইসময়। কে যেন চুপিচুপি এসে কবিকে লিখিয়ে দিয়ে চলে যায়। ঠিক তেমনি সেই গান্ধার কণ্ঠে ধারণ করে নিশ্চয়ই চমৎকৃত ও শিহরিত হয়েছিলেন আমীর খাঁ। ঠিক কেমন সেই শিহরণ ?  অভেদ বোধ ? অভেদ মন্ত্র হয়ে এসেছিল কি সেই অরূপ গান্ধার ? 

সেসব আর জানা যাবে না কোনোদিন ।

আরও পড়ুন

More from অন্যান্য

View All →