" যতক্ষণ শ্বাস রয়েছে
ততক্ষণই আশ
এই আসে তো এই
চলে যায় ঈশ্বরে বিশ্বাস "
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কিংবদন্তি আমীর খাঁ সুর দিয়ে ঈশ্বরকে ছোঁয়ার চেষ্টা করে গেছেন আমৃত্যু। তাঁর মাত্র ৬১ বছরের মহাজীবন, অকাল মৃত্যু, সবটাই সুরে সুরে গাঁথা।
মহাজনেরা বলেন, ব্রক্ষ্মজ্ঞান প্রাপ্তি হলে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। একেবারে চুপ করে যায়। অর্থাৎ ব্রক্ষ্মজ্ঞানপ্রাপ্ত মানুষের কাছে জাগতিক কথাবার্তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। শুধু কথাবার্তা নয়, জাগতিক সবকিছুই তখন তুচ্ছ বোধ হয়। এই যে চুপ করে যাওয়া, চুপ থাকা, স্তব্ধ হয়ে যাওয়া, এ সবই নাকি আসন্ন মৃত্যুর সংকেত ! জগতে থাকার প্রয়োজন যার ফুরিয়েছে, সে আর জগতে থাকবে কেন ?
ব্রক্ষ্মজ্ঞান কী ? কীভাবে আসে এই জ্ঞান ? এর রহস্য কি ? সুরসাধক আমীর খানের কাছে ব্রক্ষ্মজ্ঞান এসেছিল সুরের হাত ধরে এবং তার কয়েকদিন পর তিনি মারা যান এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। ১৯৭৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার সাদার্ন এভিনিউ ধরে যখন তিনি আসছিলেন, তখন দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটা ঘাতক লরি তাঁর গাড়িকে দুমড়ে দেয়। শিল্পী মারা যান ঘটনাস্থলেই । সেই থেকে গোবরা সিমেট্রিতে ঘুমিয়ে আছেন তিনি।
মৃত্যুর আগে তিনি টের পেয়েছিলেন তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে। একথা তিনি নিজেই জানিয়ে গেছেন। ব্রক্ষ্মজ্ঞান হলো পরম সত্যের উপলব্ধি , যা কোনো বই পড়ে শেখা বিদ্যা নয়। এটি এক অন্তর্নিহিত অনুভূতি। ব্রক্ষ্ম শব্দের অর্থ পরমাত্মা বা মহাবিশ্বের আদি শক্তি, আর জ্ঞান মানে পরম উপলব্ধি। নিজেকে এবং ঈশ্বরকে এক হিসেবে অনুভব করাই ব্রক্ষ্মজ্ঞান।
" অহং ব্রক্ষ্মাস্মি " ( আমিই ব্রক্ষ্ম ) বা " তত্ত্বমসি " ( তুমিই সেই ) ইত্যাদি বেদান্ত বাক্যগুলোর প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করাই হলো ব্রক্ষ্মজ্ঞান লাভ। এই জ্ঞান প্রাপ্ত হলে মানুষের মন থেকে সমস্ত অজ্ঞানতা দূর হয়ে যায়। মানুষ প্রকৃতই মুক্তি লাভ করে।
সঙ্গীতশিল্পী আমীর খাঁ তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক সকালে রেওয়াজে বসেছিলেন। গাইতে গাইতে হঠাৎই এক অকল্পনীয় সুর লাগলো গান্ধারে। তখন তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করছিলেন বিশিষ্ট তবলিয়া গোবিন্দ বসু। তাঁর দিকে তাকিয়ে শিল্পী বললেন,
" ঔর জাদা দিন নেহি , গোবিন্দ। ইয়ে গান্ধার জিসে লগ যাতা হ্যায় , ও ইনসান জাদা দিন রহেতা নেহি। "
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে শ্রুতি আছে ২২ টি। এই হিসেবটা সপ্তক অনুযায়ী ( সা রে গা মা পা ধা নি ) ৪ ৩ ২ ৪ ৪ ৩ ২ এইরকম।
অর্থাৎ সা আছে ৪ টি, রে আছে ৩ টি, গা আছে ২ টি, মা আছে ৪ টি, পা আছে ৪ টি, ধা আছে ৩ টি এবং নি আছে ২ টি। এই ২২ টি শ্রুতির মধ্যে ১২ টি শ্রুত এবং ১০ টি অশ্রুত।
" ঝরা পাতাদের
মর্মর ধ্বনি মাঝে
কান পেতে শুনো
অশ্রুত সুরে
মোর এই গান বাজে "















