রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বিধানসভা অধিবেশনে ঘটা করে গুন্ডাদমন বিল পাশ করায় বিজেপি সরকার। তার পরে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা এই বিলের জুজু দেখিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির সই না হলে কোনও বিলই আইনে পরিণত হয় না। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই বিলটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupodi Murmu) কাছে পাঠানো হয়। আগেই জানা যায়, বিলে স্বাক্ষর করেননি রাষ্ট্রপতি। এবার খবর বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি। আর সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পোস্ট করে রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারকে তীব্র খোঁচা দিলেন মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। 

বিজেপি সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডাদমন বিল’ পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই বিলটির ফেরত পাঠানোর কারণ হিসেবে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন, ১৯৮৫ (এনডিপিএস অ্যাক্ট)-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ২৯ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পাশ হয়। এই ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত বিলটিকে রাওলাট আইনের সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূল। এই বিল অনুযায়ী, প্রশাসন যদি মনে করে, জননিরাপত্তার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিপজ্জনক হতে পারেন বা কোনও বড়সড় সমাজবিরোধী অপরাধের চক্রান্তে জড়িত- তবে অপরাধ ঘটানোর আগেই তাঁকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে সরকার নির্ধারিত কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে। 

কেন্দ্রের মতে, প্রস্তাবিত আইনের এই বিধান মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে একই ধরনের বা সমান্তরাল প্রতিরোধমূলক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের নোটে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিলের ওই ধারায় এমন বিধান রয়েছে, যা মাদক সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য ইতিমধ্যেই ‘প্রিভেনশন অব ইলিসিট ট্রাফিক ইন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট, ১৯৮৮’ (পিটিএনডিপিএস অ্যাক্ট) নামে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় আইন রয়েছে। এই আইনের অধীনে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচারে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থা করা যায়। কেন্দ্রের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত আইনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আটক ব্যবস্থা চালু করা হলে তা কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে অতিরিক্ত বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। ফলে আইনগত জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করা হবে। সংশোধিত বিলটি কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত বা ওভারল্যাপ তৈরি করছে না বলে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি আবার রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে।

এই প্রতিবেদন পোস্ট করে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন অভিষেক। নিজের স্যোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে (Social Media Handle) তিনি লেখেন, “পোস্টারে ডবল ইঞ্জিন। শাসনে রিভার্স গিয়ার। হোমওয়ার্ক সোজা ফেরত।“ আইন পাশ হওয়ার সময়ই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই বিলকে রাওলাট আইনের সঙ্গে তুলনা করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এবার দিল্লি দরবারও মুখ পুড়ল রাজ্যের।