ভোটের প্রচারে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রভাব ফেলতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের অর্থ জুগিয়েছে বিজেপি। আগেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগ উঠেছিল। এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক দলগুলির জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসেবেই সেই তথ্যে কার্যত সিলমোহর পড়ল। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যের দুই পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া মুখ সায়ক চক্রবর্তীকে আড়াই লক্ষ টাকা এবং শমীক অধিকারীকে ১৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।

কে এই দুই ইনফ্লুয়েন্সার? এর আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তরাঁ অলি পাবের ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চায় উঠে এসেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ ছিল, মাটন স্টেক অর্ডার করার পরেও না জানিয়ে বিফ স্টেক পরিবেশন করা হয়েছিল। সেই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুক লাইভ করে বিষয়টিকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত বলে দাবি করেন তিনি। পরে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ‘ননসেন’ নামে পরিচিত শমীক অধিকারী ভোট আবহে ‘বাটন’ নামে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে আলোড়ন ফেলেছিলেন। ভিডিওটিতে ব্যালটে সঠিক বোতাম টিপে সরকার বদলের সরাসরি ডাক দেওয়া হয়েছিল।

তবে শমীকের পরিচিতি শুধুই ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরবর্তীতে এক তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও বলপূর্বক যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। অভিযোগকারিণীর বয়ানের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় মামলা রুজু করে তাঁকে আদালতে তোলে পুলিশ, জেলেও যেতে হয় তাঁকে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই ইউটিউবারদের টাকা দিয়েছিল বিজেপি?  সায়কের ক্ষেত্রে কারণ হতে পারে সে হিন্দু মুসলিম জিগির তুলে গোমাংকে ইস্যু করে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কটা ছিল মাত্র আড়াই লক্ষ। তবে আপাতদৃষ্টিতে শমীকের বান্ধবীঘটিতে ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় মেরুকরণ বা রাজনৈতিক যোগ নেই, কিন্তু তাকে দেওয়া হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন উঠছে এই ১৩ লক্ষ টাকার মধ্যে কী উকিলের খরচ থেকে জেলের খরচা সব ঢোকানো রয়েছে? তবে কারণ যাই হোক ইউটিউবার রা যে টাকা পেয়েছিলেন সেটাস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কমিশনের দেওয়া ওয়েবসাইট থেকে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া সার্বিক খরচের খতিয়ানেও চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোট খরচ হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা একাই খরচ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপির দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের দলীয় প্রচারের পিছনেই ব্যয় হয়েছে ২১৭.১৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীদের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের খরচ মেটাতে দলীয় তহবিল থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কমিশনের এই নথির ভিত্তিতে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ডিজিটাল মাধ্যম থেকে মাঠ ময়দান—ভোটে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কোনও কসুর করেনি গেরুয়া শিবির।