আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন নির্যাতিতার পরিবার। মেয়ের বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে টাকা নেওয়ার চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো মারাত্মক অভিযোগ জানাতে গেলেও সিবিআই তা কানেই তুলতে চায়নি বলে অভিযোগ অভয়ার মা রত্না দেবনাথের।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। আদালত সূত্রে খবর, আগামী ২০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। তবে এ দিন শুনানিপর্বে বেশ কিছু গুরুতর বিষয় সামনে আসে। ঘটনার এত দিন পরেও নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ১৬৪ ধারায় গোপন জবানবন্দি কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কোনও ভিডিয়োগ্রাফি রয়েছে কি না, তাও জানতে চায় আদালত। পরিবারের তোলা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ১ অক্টোবর খড়দহ থানার আইসি ও তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

এ দিন আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নির্যাতিতার মা। তিনি স্পষ্ট জানান, ঘটনার পর তাঁদের বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই রিভলবার বাজেয়াপ্তও করা হয়। কিন্তু এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রথমে তাতে কোনও আমলই দেয়নি।

ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে রত্না দেবনাথ দাবি করেন, “নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিল। গ্রিন করিডোর করে মেয়েটাকে বাড়ির সামনে বেওয়ারিশ লাশের মতো এনে ফেলে রেখে গেল। যার জন্য আমরা দ্বিতীয় বার পোস্ট-মর্টেম পর্যন্ত করানোর সুযোগ পেলাম না। ওরা ডিসি নর্থকে ডেকে নিয়ে এসেছিল।” এর পরই তিনি যোগ করেন, “মেয়ের বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে জোর করা হচ্ছিল টাকাটা নেওয়ার জন্য। কিন্তু ওর বাবা টাকা নিতে অস্বীকার করে। ডিসি নর্থ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই ওরা তিন জন মিলে ফের অস্ত্র ধরে শাসায়, এই কথা যেন কোনও মতেই বাইরে না যায়। আমরা এই সমস্ত কথা খড়দহ থানায় জানিয়েছিলাম। কিন্তু আগে তো সিবিআই আমাদের এই কথাগুলো শুনতেই চায়নি।”