“মন্দির মানে যেখানে মানুষ পুজো করতে যান। আরোগ্য মন্দির যদি নাম হয়, তাহলে বাংলার গরীব মানুষকে সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে। কোনও টাকা নেওয়া যাবে না।” নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে এমনই দাবি তুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থাকলেও বাংলায় বিনিয়োগ আসাকে স্বাগত জানানো উচিত। একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলেও গৌতম আদানি (Goutam Adani) বাংলায় এসে বিনিয়োগের কথা বলেছিলেন, শিল্পনীতির প্রশংসা করেছিলেন। ফলে এখনকার ঘোষণা একেবারে নতুন নয়।
নিউটাউনে এদিন ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর (Adani Arogya Mandir) ভূমিপুজো ও শিলান্যাসকে ঘিরে রাজ্যের শিল্প ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ ৫১.৭৫ একর জমির উপর তৈরি হবে এই বহুমুখী হাসপাতাল। প্রকল্পে ৪,০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। আর এই নিয়ে কুণাল বলেন, “মন্দির মানে যেখানে মানুষ পুজো করতে যান। আশা করব আরোগ্য মন্দির যদি নাম হয় তাহলে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেখানে দেওয়া হবে। ওখান থেকে কোন টাকা নেওয়া যাবে না সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে। সেবামূলক ভাবে করতে হবে। গরীব মানুষ মন্দিরে যায় দেবতার কাছে। মন্দিরের কোন বিল বই বা ফ্রি হয় না। ফলে আরোগ্য মন্দির যদি নাম হয় তাহলে আমরা গৌতম আদানিকে অনুরোধ করব সেটা বাংলার গরীব মানুষদের জন্য বিনা মুল্যে চিকিৎসা দেওয়া হোক।”
আরও পড়ুন: নিউটাউনে আদানি গ্রুপের ২০০০ বেডের হাসপাতালের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই বাংলায় শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। দিন কয়েক আগেই মুম্বই গিয়ে আম্বানিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এবার কলকাতায় আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) বিনিয়োগ। তবে বাংলায় এই বিনিয়োগ নতুন কথা নয়। এরআগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার থাকাকালীন সময়তেও বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ করেছিলেন একাধিক শিল্পপতিরা। ক্ষুদ্র শিল্প, কুটির শিল্প এবং মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটেছিল। আর তা নিয়েই তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর আসা নতুন ঘটনা নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ও গৌতম আদানি নবান্নে এসেছেন, রাজ্যের শিল্পনীতির প্রশংসা করেছেন এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে আদানি গোষ্ঠীর তরফে আরও বেশি করে বাংলায় বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে।”
















