বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিনই রাজ্যের পর্যটন শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানতে উদ্যোগী সরকার। এই লক্ষ্যে প্রথমবার ‘ইনভেস্টরস সামিটের’ আয়োজন করছে নবান্ন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার আলিপুরের একটি অভিজাত হোটেল হতে চলেছে এই অনুষ্ঠান। পর্যটন দফতরের আশা, এই মঞ্চ থেকেই বড় বিনিয়োগ আসবে যা রাজ্যের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনতে পারে।
ইতিমধ্যেই পর্যটন পরিকাঠামো সম্প্রসারণে একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। স্বদেশ দর্শন প্রকল্পে ৫৭ কোটি টাকার একটি আধ্যাত্মিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক এবং সুন্দরবনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে।
পর্যটন দফতরের আশা, ২৭ সেপ্টেম্বরের ইনভেস্টরস সামিট রাজ্যের পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলে দেবে। সেই সঙ্গে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।অন্তত তিন জন বিদেশি বিনিয়োগকারীও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে দফতর সূত্রের খবর।
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন,” যাঁদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদেরই এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশ-বিদেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীরা যোগ দেবেন।”
সরকারের লক্ষ্য, পর্যটনকে শুধু পরিষেবা ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বড় শিল্পে পরিণত করা। সেই লক্ষ্যেই ‘সম্ভাবনা থেকে বিনিয়োগ, বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে এগোচ্ছে পর্যটন দফতর। মন্ত্রীর দাবি, আগামী দিনে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে পর্যটন।
পর্যটনকে সারা বছর চাঙ্গা রাখতে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে বড় উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে দফতর। পৌষ মেলা, রাস মেলা-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নদী পর্যটনেও জোর দিচ্ছে সরকার। ১০০ আসনবিশিষ্ট হাইব্রিড ইলেকট্রিক ফেরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিআরএসই-র সহযোগিতায় প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা, ব্যারাকপুর, চন্দননগর, হুগলি, অম্বিকা কালনা, নদিয়া ও বরানগর-সহ একাধিক জায়গায় নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ১০৮টি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার জন্য ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। বিষ্ণুপুরকে ‘টেম্পল টাউন’ হিসেবে গড়ে তুলতে আইআইটি খড়্গপুরের সহায়তায় পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। রোপওয়ে, হেরিটেজ, আদিবাসী পর্যটন এবং হোমস্টে পর্যটনেও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
















