গল্পটা তিন ভাই-বোনের। তবে নেপথ্যে রয়েছে এক বাবার দীর্ঘ লড়াই। কখনও দিনমজুরি, কখনও খেতের কাজ। এভাবেই সংসার চালিয়েছেন ময়নাগুড়ির উত্তর মাধবডাঙার জিতেন রায়। অভাবের সংসারে তবুও সন্তানদের লেখাপড়া থামতে দেননি বাবা। শুক্রবার সেই লড়াইয়ের ফল মিলল একসঙ্গে তিন গুণ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল (Police Constable) নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন তাঁর তিন সন্তান কমলেশ, অবিনাশ ও পম্পা।

আরও পড়ুন: ফান্ডের অভাবে গড়িয়ার স্কুলে বন্ধ মিড-ডে মিল!

পরিবারের বড় ছেলে কমলেশ। তাঁর পর অবিনাশ ও পম্পা। আরও এক সন্তান রয়েছে পরিবারে। বাবা জিতেনের দিনমজুরির সামান্য আয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালানো সহজ ছিল না। তবু কলেজের পড়া শেষ করে তিন ভাই-বোনই সরকারি চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন। একাধিক পরীক্ষায় সাফল্য না এলেও হাল ছাড়েননি।

আরও পড়ুন: ঋতিকাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা পোস্ট! কোথায় পুলিশের নজরদারি? প্রশ্ন সবমহলের

শুক্রবার ফল প্রকাশের পর তালিকায় তিনজনের নাম পাশাপাশি দেখে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তাঁরা। অবিনাশের কথায়, এই সাফল্যের কৃতিত্ব প্রথমেই মা-বাবার। সংসারে টানাটানি থাকলেও পড়াশোনার প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব তাঁরা বুঝতে দেননি। চাকরি পাওয়ার পর অবিনাশের প্রথম লক্ষ্যও তাই পরিবারকে ঘিরেই। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমে মা-বাবার জন্য একটা ভালো বাড়ি তৈরি করতে চাই। তারপর নিজের চাকরিতে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’’

তিন সন্তানের সাফল্যে আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না জিতেনও। বছরের পর বছর সামান্য আয় থেকে কখনও নিজের প্রয়োজন কমিয়ে, কখনও খরচ বাঁচিয়ে সন্তানদের পড়িয়েছেন। সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি একসঙ্গে তিন সন্তানের চাকরি। তাঁর কথায়, ‘‘সবসময় সবকিছু দিতে পারিনি। ওরাও অনেক কষ্ট করে পড়েছে। ভগবান এতদিনে মুখ তুলে চাইল।’’