মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (gyanesh kumar) পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ-মিছিল। মিছিলে শামিল হয়েছিল বাম থেকে কংগ্রেস-সহ বিরোধী নেতারা। কলকাতা থেকে জম্মু ও কাশ্মীর সর্বত্রই জ্ঞানেশের পদত্যাগের বিরুদ্ধে সুর চড়েছিল।
শুক্রবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দিল্লি, কলকাতা, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব,পাটনা, হিমাচল প্রদেশ, চণ্ডিগড়,লখনৌ,দেরাদুন এবং জম্মু-কাশ্মীরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধীরা। দিল্লির আইটিও এলাকায় জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে পোস্টারও দেখা যায়। সেখানে লেখা,"জ্ঞানেশ কুমার হটাও, নির্বাচন কমিশন বাঁচাও।" নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে দিল্লি কংগ্রেসের বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
SIR প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পরেই দেশজুড়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার হয়েছে। এদিকে দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের (gyanesh kumar) ইস্তফার দাবিতে প্রতিবাদরত দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব-সহ সবাইকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালীন গুয়াহাটিতে আটক করা হল অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈকে। একাধিক রাজ্য ও শহরে চলছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ। কোথাও নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল, কোথাও জ্ঞানেশ কুমার-সহ নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির চিত্রও সামনে এসেছে।
এই সর্বভারতীয় আন্দোলনের জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তার পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামীদিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় কোনো রূপ নিতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন পুরোপুরি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে হিন্দু খুন, 'জিহাদিস্তান' বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট তসলিমার!
বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি প্রকাশিত এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজন, নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় ছিল।
















