ভোটের আগে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রভাব ফেলতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবারদের (YouTuber) অর্থ জুগিয়েছে বিজেপি (BJP)। আগেই এই অভিযোগ উঠেছিল বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক দলগুলির জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসেবেই সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর পড়েছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য সামনে আসার পরেই শুক্রবার বিধানসভা থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে সাংবাদিকের মুখোশ পরা ইউটিউবারদের ধুয়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজ্ঞাপন হিসেবে যে কেউ টাকা নিতে পারে। কিন্তু ভোটের আগে ম্যানুফ্যাকচার্ড ন্যারেটিভ (Manufactured Narrative) তৈরির জন্য টাকা নেওয়া ইউটিউবার, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল বিধায়ক।
কেউ পেয়েছেন লক্ষাধিক টাকা, কেউ পেয়েছেন কয়েক কোটি! বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ইউটিউবার থেকে মিডিয়ার একাংশকে টাকা দিয়ে কাজে লাগানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যসূত্র থেকে এটা পরিষ্কার যে একাধিক ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে মিডিয়ার একাংশকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেছিল পদ্মশিবির। বৃহস্পতিবার কমিশনের যে তালিকা প্রকাশ পেয়েছে সেখানে উল্লিখিত নামগুলি দেখলে এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে কীভাবে টাকা খরচ করেছে তৎকালীন বিরোধী তথা রাজ্যের বর্তমান শাসকদল। একদিকে যেমন সায়ক চক্রবর্তী, নন সেন শমীক অধিকারী, পিনাক কী বলছে, আর জে প্রিয়াঙ্কাকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে ঠিক তার পাশাপাশি নামী মিডিয়া হাউজের এক্সিট পোল প্রভাবিত করতে CNX-কে দেওয়া হয়েছিল ১৮ কোটি।
এই নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “পিনাক কী বলছে”- সেটা দেখা যাচ্ছে কিন্তু কী নিচ্ছেন, কারা দিচ্ছেন সেটা দেখা যাচ্ছে না। সাংবাদিকের মুখোশ পরে কোনও টিউটিউবার যদি নিপরাপেক্ষতার ভান করে তাহলে বিশ্বাসযোগ্যতা ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে কুণাল স্পষ্ট করে দেন, বিজ্ঞাপন হিসেবে কোনও সংস্থা টাকা নিতেই পারে, কিন্তু কোনও ব্যক্তি ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সার কীভাবে টাকা পান!
তীব্র আক্রমণ করে বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, “ভোটের আগে যে সব ইউটিউবাররা তৃণমূলকে নিশানা করে, বিজেপির গুণগান গেয়েছেন, পরে যদি দেখা যায় তাঁদের অ্যাকাউন্টে বিজেপি টাকা দিয়েছে তাহলে তো তাঁরা হাতের পুতুল”।
সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) অলিপাব-প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কুণাল বলেন, ”অলিপাবে কী বিপ্লব! ধর্মের নামে ভেদাভেদ করে একটা গরিব ওয়েটারকে জেলে পাঠিয়েছেন, রেস্তোরাঁকে বদনাম করলেন, পরে দেখা গেল তাঁর অ্যাকাউন্টে গেছে আড়াই লাখ।”
সরস টিপ্পনি কেটে কুণাল বলেন, ”কথায় কথায় কুণাল ঘোষ-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদনাম করে ভিডিও করেছেন এই ইউটিউবারকা। আমাদের গালাগালি করে যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁদের আমাদের খাওয়ানো উচিত।”
তৃণমূলকে হাটাতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে গোয়েবেলসিও কায়দায় ম্যানুফ্যাকচার্ড ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে- এই তথ্য থেকেই এই কথা স্পষ্ট- অভিযোগ কুণালের।
















