সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে হাসপাতালের কাউন্টার থেকে বিমা দফতর, বারবার ছোটাছুটি করতে হয় রোগী ও তাঁর পরিজনদের। কখনও আটকে যায় রেজিস্ট্রেশন, কখনও প্রি-অথোরাইজেশন, আবার কখনও প্রয়োজনীয় নথির অভাবে ক্লেম মেটাতে দেরি হয়। এই হয়রানি কমাতেই এবার হাসপাতালগুলির জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করল স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)।
আরও পড়ুন: বারুইপুর আদালতে সায়নকে ডিম, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হাই কোর্টে
আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার পরিষেবা নিতে গিয়ে রোগী বা তাঁর পরিবার যাতে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের হাসপাতালেই একজন করে মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর বা ‘মেডকো’ (Medco) রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতাল, চিকিৎসক, বিমা কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রী আরোগ্য মিত্রদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব সামলাবেন এই মেডকো।
আরও পড়ুন: বিতর্ক-পদত্যাগের দাবি! চাপের মুখে জেন-জি'দের সঙ্গে জ্ঞানেশের অনুষ্ঠান স্থগিত
সহজ করে বললে, হাসপাতালের ভিতরে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের "সিঙ্গল পয়েন্ট" হিসেবে কাজ করবেন তিনি। কোনও রোগী সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার যোগ্য কি না, প্রথমে তা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর তাঁর রেজিস্ট্রেশন, পোর্টালে প্রি-অথোরাইজেশনের আবেদন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা বাতিল করার প্রক্রিয়াও সামলাতে হবে মেডকোকে।
চিকিৎসা চলাকালীন ক্লেমের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল নথি তৈরির ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন তিনি। কোনও নথি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্যানেল ডাক্তার, অ্যান্টি-ফ্রড ইউনিট কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে মেডকোর। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরোগ্য মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং চিকিৎসা ও ক্লেম সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে তাঁকে।
মেডকো হিসেবে কাকে নিয়োগ করা যাবে, তারও নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির। চিকিৎসককে এই দায়িত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে ধরা হলেও, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে অন্য কর্মীকেও মেডকো করা যেতে পারে। তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজকর্ম, মেডিক্যাল বিলিং, বিমা পরিষেবার সুবিধা, বিভিন্ন প্যাকেজ এবং মেডিক্যাল ডকুমেন্টেশনের বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য দফতরের লক্ষ্য, বিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়েও শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা নথিপত্রের সমস্যায় কোনও রোগী যেন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। হাসপাতালেই একজন নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকলে রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন দফতরে ঘোরাঘুরির প্রয়োজন কমবে এবং ক্লেম প্রক্রিয়াও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে।
রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ার পর এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতেই হাসপাতালগুলিতে মেডকো নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা-সুবিধা পেতে পারে। আর আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের আওতায় না থাকা যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। ফলে দুই স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনিক জটিলতায় না পড়েন, সেই ব্যবস্থাই এবার হাসপাতালের ভিতরে পাকাপোক্ত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।
















