রাজ্যের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করল আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার এই চুক্তির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর আবহ ও সৃষ্টিশীলতাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা এবং শিল্পোদ্যোগের সঙ্গে উৎসবের সমন্বয় গড়ে তোলাই এই যৌথ পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
আদানি গোষ্ঠীর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘দুর্গাপুজো আদানি প্রিভিউ ২০২৬’ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত আটটি পুজো কমিটিকে ২৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ১০ থেকে ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত এই নির্বাচিত মণ্ডপগুলিতে একটি বিশেষ প্রবেশ ব্যবস্থা বা ‘সিঙ্গল এন্ট্রি’ চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎসবের ভিড় সামাল দেওয়া এবং সুশৃঙ্খল ভাবে প্রতিমা ও মণ্ডপ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই সময়ের ব্যবস্থাপনা রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে উৎসবের মূল দিনগুলিতে এই ব্যবস্থাপনায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াত কতটা মসৃণ থাকবে, তা নিয়ে পুজোপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে মৃদু কৌতূহলও তৈরি হয়েছে।
চুক্তির অন্য একটি দিক হল মণ্ডপ ও প্রতিমা শিল্পের প্রসার। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত পুজোর শিল্পকর্মগুলি ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন শিল্প প্রদর্শনী, সংগ্রহশালা বা আর্ট বিয়েনালেতে প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারে। শিল্প সমালোচকদের মতে, এর ফলে বাংলার মৃৎশিল্পী ও মণ্ডপশিল্পীদের কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আর্থিক অনুদান ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে শিল্প তুলে ধরার এই উদ্যোগকে যেমন ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনই বাংলার চিরাচরিত ‘বারোয়ারি’ পুজোর উন্মুক্ত আবহের সঙ্গে এই নতুন ধরনের ব্যবস্থাপনার সামঞ্জস্য কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে সংস্কৃতি মহলে গঠনমূলক আলোচনা চলছে।
















