SIR নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবি তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার, নিজের স্যোশাল মিডিয়া (Social Media) পেজে লাইভে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। বলেন, “সারা দেশ লুট করছে, এটা সবথেকে বড় কেলেঙ্কারি।” তিনি দাবি করেন, “যে মানুষের নাম বাদ গেছে পুরনো লিস্ট ফেরাতে হবে। যে যে রাজ্য SIR-এর নামে EVM ক্যাপচার করে জিতেছে, সেই রাজ্যগুলিতে আবার নতুন করে পুরনো লিস্টে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।” 

বুধবার সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের (জ্ঞানেশ কুমারের) বিভিন্ন সিদ্ধান্তের লিখিত আপত্তি জানিয়েছিল দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া, বাদ দেওয়া নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় সংযোজনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর সম্মতি ছিল না। এই কথা সামনে আসার পরেই গর্জে ওঠেন একের পর এক বিরোধী নেতৃত্ব। সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন মমতা তৃণমূলর (Mamata TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সরব হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এর পরে বিকেল চারটে ফেসবুক লাইভে এসে একের পর এক তোপ দাগেন মমতা। 

জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারের পাশাপাশি ২০২৪-এর লোকসভা ও ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের যে সব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, তা বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “আমাদের নির্বাচন ফিরিয়ে দিন। ভোটের আগে বার বার আমরা এ সব বলেছি। সারা দেশ লুট করছে, এটা সবথেকে বড় কেলেঙ্কারি।” মমতা বলেন, “বিজেপি দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান ধ্বংস করতে পারে না।” এর পরে তিনি দাবি তোলেন, “আমার প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে। তাঁর যাঁরা মদতদাতা তাঁদের গ্রেফতার দরকার।” পাশাপাশি মমতার দাবি, “যে মানুষের নাম বাদ গেছে পুরনো লিস্ট ফেরাতে হবে। যে যে রাজ্য SIR-এর নামে EVM ক্যাপচার করে জিতেছে, সেই রাজ্যগুলিতে আবার নতুন করে পুরনো লিস্টে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ”জোর করে যে ইলেকশনগুলি জিতে বিজেপি ভাবছে রক্ষাকবচ দিতে ইলেকশন কমিশন বসে আছে। আমরা এক কথা বারবার বলেছি আমাদের কথা কেউ শুনে নিয়ে আজকে আমাদের কথা প্রমাণ হয়ে গেছে। চিফ জাস্টিসকে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের সব পার্টি মিলে সমস্তটা জানিয়েছিলাম। সীমা খানাকে প্রথম অভিষেক এক্সপোজ করেছিলেন। সারা দেশ লুট করছে এত বড় স্ক্যান্ডেল স্টোরি, আমরা আমাদের জীবনে আগে কখনো দেখিনি। এই ইলেকশন কমিশনারকে গ্রেফতার করতে হবে। ওদের কোনও মরাল অথরিটি নেই আর কন্টিনিউ করার। সারাদেশে লুট করছে। জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতার হওয়া উচিত। এই চেয়ারটা ওঁর জন্য নয়। এই করেই ২০২৪-এ বিজেপি জিতেছে। জ্ঞানেশ কুমারের জন্য জিতেছে বিজেপি। এমনকী পুলিশকেও মিস ইউজ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সহযোগিতায় ভোট লুঠ হয়েছে। ইতনা বড়া ঘোটালা কখনও হয়নি।”