সুন্দরবনের (Sundarban) নদীপথ পেরিয়ে নৌকায় চেপে গঙ্গাসাগরে এলেন দেবী দুর্গা। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঢাকের বোলে দেবীকে বরণ করে নিলেন গ্রামবাসীরা। গঙ্গাসাগরের (Gangasagar) গোবিন্দপুর লিটিল স্টার সংঘের দুর্গাপুজোয় (Durga Pujo) এ বার বিশেষ আকর্ষণ চটের তৈরি প্রতিমা। পরিবেশবান্ধব শিল্পকর্মের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় উঠে আসছে এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও। শাস্ত্র ও লোককথার প্রচলিত রীতি মেনেই এ বার নদীপথে প্রতিমা আনার ব্যবস্থা করেছে পুজো কমিটি। নামখানা থেকে নৌকায় চাপিয়ে প্রতিমাকে নিয়ে আসা হয় গোবিন্দপুর ঘাটে। দীর্ঘ নদীপথ পেরিয়ে দেবী ঘাটে পৌঁছতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান কয়েকশো গ্রামবাসী। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে দেবীকে বরণ করে মণ্ডপে নিয়ে যান তাঁরা।

আরও পড়ুন: লটারি দোকান তো নয়, বইয়ের স্টলে বাধা কেন? বামেদের মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ আদালতের

এ বার ১১ বছরে পা দিল গোবিন্দপুর লিটিল স্টার সংঘের দুর্গাপুজো। আর এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ পরিবেশবান্ধব প্রতিমা। নামখানার শিল্পীদের হাতের নিপুণ কারুকার্যে তৈরি হয়েছে দেবী দুর্গার মূর্তি। মাটি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চটের দড়িকে। চটের সূক্ষ্ম বুননে তৈরি হয়েছে দেবীর পোশাক ও অলঙ্কার। শিল্পকর্মের এই অভিনব ভাবনা এক দিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিচ্ছে, অন্য দিকে তেমনই তুলে ধরছে বাংলার লোকশিল্পের ঐতিহ্য। তবে শুধু প্রতিমা নয়, এ বারের মণ্ডপসজ্জাতেও রয়েছে বিশেষ ভাবনা।

 ‘বৃদ্ধাশ্রম ও প্রবীণ বাবা-মায়ের একাকিত্ব’—এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। আধুনিক জীবনে অনেক প্রবীণ মানুষকে কী ভাবে নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাতে হয়, কী ভাবে জীবনের শেষ বয়সে আপনজনদের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হতে হয়, সেই ছবিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। মণ্ডপের শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রবীণ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও শ্রদ্ধার বার্তা তুলে ধরতে চাইছে পুজো কমিটি।

উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মনে সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ জাগিয়ে তোলাই এই ভাবনার উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। নদীপথে প্রতিমার আগমন, চটের অভিনব ব্যবহার এবং প্রবীণদের একাকিত্ব নিয়ে সামাজিক বার্তা সব মিলিয়ে এ বার গঙ্গাসাগরের গোবিন্দপুর লিটিল স্টার সংঘের পুজো বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। আনন্দের উৎসবের আবহে পরিবেশ সচেতনতা ও বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিতে প্রস্তুত এই পুজো।