শিবির বদলের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ডেমোক্র্যাটিক মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদে ইস্তফা দিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। চতুর্থীর সকালে ঋতব্রত গোষ্ঠীকে তিনি এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বিষয়টি জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। গোষ্ঠীর রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে চিঠি দিয়ে সুজাপুরের বিধায়ক শারীরিক ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়লেও এই ঘটনায় ঋতব্রত গোষ্ঠীর ভাঙনের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে একাধিক বিধায়ক যোগ দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। দলের প্রতীক থেকে তহবিলের দাবি করে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে তুলে ধরতে চাইলেও শেষমেষ কমিশনের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম পেয়েছে বিজেপির বি টিম হিসেবে কাজ করা 'গদ্দার'দের শিবির। সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনাও মমতা বিরোধী এই দলে যোগ দেন। সেই শিবির থেকেই তাঁকে মহিলা সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার মাস তিনেকের মধ্যে এই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্বাচনের আগে মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে ইতিহাসে সাবিনার নাম।এসআইআর-এর (SIR) কাজে যাওয়া বিচারকদের আটকে রাখা ও তাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তাঁর যোগ ছিল বলে দাবি করে তদন্তকারী সংস্থা। সাক্ষী হিসেবে সাবিনাকে তলব করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এসবের মাঝেই ডেমোক্রেটিক তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদ থেকে সাবিনার সরে দাঁড়ানো নতুন জল্পনা তৈরি করেছে রাজনীতিতে। সুজাপুরের বিধায়ক এরপর ঋতব্রত শিবিরে থাকছেন নাকি অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনও জানা যায়নি।