ভাগাভাগির রাজনীতি করেই ক্ষমতায় এসেছে পদ্ম শিবির। উত্তরবঙ্গ ভাগের ইস্যুকে সমর্থন জানিয়ে ক্ষমতায় এলে গোর্খাল্যান্ড করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এখন নিজেদের প্রতিশ্রুতির ফাঁদেই পরেছে তারা। এবার কামতাপুরীর দাবিতে তুলল কেপিপি।পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান ঘিরে কেন্দ্রীয় উদ্যোগের মধ্যেই উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যৎ সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। তরাই ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে প্রস্তাবিত গোর্খাল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সামনে আসায় আপত্তি তুলেছে কামতাপুর পিপলস পার্টি (কেপিপি)। তাদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের ভূখণ্ড নিয়ে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কামতাপুর রাজ্যের দাবিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে সমতলের পৃথক রাজ্যের দাবিগুলিও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

দার্জিলিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিংয়ের সঙ্গে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির সাম্প্রতিক বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মত উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সহসচিব অরবিন্দ খের এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের উপস্থিতিতে হওয়া ওই আলোচনায় সব পক্ষের অবস্থান অবশ্য এক নয়। একদিকে রয়েছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা গঠনের প্রস্তাব, অন্যদিকে পৃথক রাজ্যের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে কয়েকটি সংগঠন।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রস্তাবে তরাই ও ডুয়ার্সের ৩৯৬টি গোর্খা অধ্যুষিত মৌজাকে নতুন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আওতায় আনার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু গোর্খাল্যান্ড অ্যাপেক্স কমিটি ও ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এই বিকল্প ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকের পাশাপাশি তরাই-ডুয়ার্সকেও নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠন করতে হবে। এই দাবির ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

কেপিপির আপত্তি শুধু গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে নয়, বরং উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর কার রাজনৈতিক দাবি কতটা গুরুত্ব পাবে, সেই প্রশ্নেও। সংগঠনটির দাবি, উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি অসমের কিছু অংশ নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠনের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। তাই তরাই-ডুয়ার্সকে অন্য কোনও প্রস্তাবিত রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা হলে কামতাপুরপন্থীদের দাবিও বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যথায় আঞ্চলিক স্বার্থের সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

কেপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত না নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কামতাপুর রাজ্যের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে উত্তরবঙ্গে ফের অস্থিরতা ছড়ানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। ফলে কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তরাই-ডুয়ার্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিভিন্ন আঞ্চলিক দাবির মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে।