একের পর এক মাওবাদীর আত্মসমর্পণ (Maoist Surrender) ও গ্রেফতারের পর এ বার পুরুলিয়ার (Purulia) জঙ্গলে মিলল আগ্নেয়াস্ত্রের হদিস। বান্দোয়ানের ঘন জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি রাইফেল, একটি রিভলভার এবং ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই সাফল্যের কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি প্রাক্তন মাওবাদী সদস্যদের ফেলে যাওয়া।

আরও পড়ুন: ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণে আপত্তি, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে কর্নাটক সরকার

পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে মাওবাদীদের (Maoist) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। আত্মসমর্পণ করেছেন বেশ কয়েক জন মাওবাদী। অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীদের কার্যকলাপের বিষয়ে খবর পেয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, এই অভিযানে কলকাতার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF), বাঁকুড়া জেলা পুলিশ, ঝালদা মহকুমা পুলিশ, পুরুলিয়া জেলা পুলিশের অ্যান্টি-মাওবাদী সেল, সিআইএফ এবং সিআরপিএফের সদস্যেরা অংশ নেন। অভিযানের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে তিনি নিজেও একাধিকবার ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানান।

তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গল থেকে তিনটি ৩১৫ বোরের বোল্ট অ্যাকশন রাইফেল, একটি ৩৮ বোরের রিভলভার এবং ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি দূরপাল্লার। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলে আরও আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। সেই অস্ত্রের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে আরও অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন।

কীভাবে এই অস্ত্রের সন্ধান মিলল? পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে মদন, রবি ও মীরা নামে তিন মাওবাদী গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্রের ভিত্তিতে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে ঝালদার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গৌরব ঘোষ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে যান। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বান্দোয়ান ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়।

সেই অভিযানেই উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় ওই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করা হত। পরে প্রাক্তন মাওবাদী সদস্যেরা সেগুলি জঙ্গলে ফেলে রেখে যান। সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের পর সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সূত্র ধরে ওই অঞ্চলে আরও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।