শিষ্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল স্বঘোষিত গুরুর বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় বচসা, যা গড়ায় হাতাহাতিতে। গোলমালের মধ্যেই ইটের আঘাতে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির। হুগলির (Hooghly) কানাইপুরে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান্ট সংলগ্ন একটি কলোনির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
আরও পড়ুন: ৫৬ শতাংশ সংরক্ষণে আপত্তি, হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে কর্নাটক সরকার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সুখচাঁদ সমাদ্দার। তিনি কোন্নগরের বাসিন্দা। অভিযোগ, গোলমালের সময় তাঁর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন গণেশ হালদার। গুরুতর জখম অবস্থায় সুখচাঁদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনায় গণেশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্বঘোষিত গুরু গোপালকৃষ্ণ গোস্বামীকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ”জলদি আসুন”: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ব়্যাগিং-র অভিযোগ, অভিভাবকদের কাছে ফোন
কী নিয়ে এই অশান্তি? স্থানীয় সূত্রে খবর, হাবড়ার বাসিন্দা গোপালকৃষ্ণের কয়েক জন শিষ্য রয়েছেন কানাইপুরে। সোমবার রাতে তাঁদেরই এক জনের বাড়িতে যান তিনি। অভিযোগ, সেখানে এক শিষ্যের স্ত্রীকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন ওই ব্যক্তি। তা নিয়ে সরব হন মহিলা। তাঁর দাবি, এর আগেও অন্য মহিলাদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছেন ওই গুরু। গণেশ হালদারও মহিলার বক্তব্যকে সমর্থন করেন বলে জানা গিয়েছে।
এর পরেই পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয় মতবিরোধ। অভিযোগের প্রতিবাদে মহিলার পাশে দাঁড়ান কয়েক জন। আবার গুরুর সমর্থনেও এগিয়ে আসেন অন্যরা। দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি চলাকালীনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই সময় সুখচাঁদের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। প্রাণঘাতী সেই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। এক দিকে মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগে গণেশ হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য দিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোপালকৃষ্ণ গোস্বামীর বিরুদ্ধে। কীভাবে অশান্তি চরমে উঠল এবং মৃত্যুর ঘটনায় আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।















