কর্নাটকে সংরক্ষণ নীতি নিয়ে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। তপসিলি জাতি ও তপসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের হার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আনা ২০২২ সালের আইন খারিজ করে দিল কর্নাটক হাই কোর্ট। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। আদালতের রায়ে স্পষ্ট, সংরক্ষণের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধি ও আইনি নজির উপেক্ষা করা যায় না। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে সংরক্ষণ নিয়ে আইনি লড়াই আপাতত শেষ হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: গাছে ফুল আসছে না? ডিমের খোসার সঙ্গে এই বিশেষ উপাদান মেশালেই বাগান হবে ফুলের স্বর্গ!

বিতর্কের সূত্রপাত সংরক্ষণের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে। কর্নাটকের তৎকালীন বিজেপি সরকার তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষণ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর ফলে রাজ্যে মোট সংরক্ষণের পরিমাণ বেড়ে ৫৬ শতাংশে পৌঁছনোর কথা ছিল। আদালতের বিবেচনায়, এই বর্ধিত হার সংরক্ষণের প্রচলিত ৫০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করছে। সেই সঙ্গে সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সমতা এবং সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের নীতির প্রশ্নও সামনে আসে। এই প্রেক্ষিতেই সংরক্ষণ বৃদ্ধির বিধানকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করেছে আদালত।

সোমবার বিচারপতি বিভু বাখরু ও বিচারপতি কে এস হেমলেখারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগমোহন দাস কমিশন এবং বিচারপতি সুভাষ বি আদি কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সংরক্ষণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। বাসবরাজ বোম্মাই মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিজেপি সরকারের আমলেই বিধানসভায় আইনটি পাশ হয়। পরে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি রাজ্যপাল বিলে সম্মতি দেন। কিন্তু আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়েই হল।

আরও পড়ুন: ”জলদি আসুন”: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ব়্যাগিং-র অভিযোগ, অভিভাবকদের কাছে ফোন

সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা নিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থায় ১৯৯২ সালের ইন্দ্রা সাহনি মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সাধারণভাবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের সীমা নির্ধারণ করেছিল। কর্নাটকের আইনকে ঘিরে বিতর্কেও সেই আইনি নীতির গুরুত্ব সামনে এসেছে। সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়গুলির জন্য সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্য এবং সংবিধানের সমতার বিধানের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই মামলায় তা ফের স্পষ্ট হল। সংরক্ষণের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়, সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: আদালতের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ভিবজিওরের সম্পত্তি বিক্রি! তদন্তে ইডি

হাই কোর্টের রায়ের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে কর্নাটক। উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবে। ফলে সংরক্ষণের বর্ধিত হার ভবিষ্যতে কার্যকর করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপর। একদিকে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর দাবি, অন্যদিকে সংবিধান নির্ধারিত সীমা ও সমানাধিকারের প্রশ্ন—এই দুইয়ের সংঘাতেই কর্নাটকের মামলাটি এখন জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।