ডিম খাওয়ার পর সাধারণত আমরা ডিমের খোসা ফেলে দিই ডাস্টবিনে। কিন্তু আপনি কি জানেন, গাছের পুষ্টি জোগাতে এবং বাগানে ফুলের বন্যা আনতে এই ফেলে দেওয়া ডিমের খোসাই ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে? সঠিক নিয়মে ডিমের খোসার সঙ্গে একটি বিশেষ উপাদান মিশিয়ে যদি গাছের গোড়ায় দেওয়া যায়, তবে কোনো দামি রাসায়নিক সার ছাড়াই গাছ ভরে উঠবে ফুলে ও ফলে।
আরও পড়ুন: রকেটের গতিতে ছুটল বাজার! একদিনেই ৪ লক্ষ কোটির বেশি লক্ষ্মীলাভ বিনিয়োগকারীদের
চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিমের খোসার সঙ্গে কী মেশাবেন এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন:
ডিমের খোসা ও চা পাতা
ডিমের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা গাছের কোষের গঠন শক্ত করে এবং ফুল-ফল ঝরে পড়া রোধ করে। এর সঙ্গে আপনাকে মেশাতে হবে ব্যবহৃত চা পাতা (বা ফ্রেশ চা পাতা)। চা পাতায় থাকে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফরাস, যা গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও প্রচুর কুঁড়ি আনতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ক্যানসারের ওষুধে বিরাট স্বস্তি! দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ
তৈরির সহজ পদ্ধতি
প্রথমে ডিমের খোসাগুলি ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। ধুয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে কোনো দুর্গন্ধ না হয় বা পিঁপড়ে না লাগে। ব্যবহৃত চা পাতা হলে তা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ঝরঝরে করে নিন। এবার শুকিয়ে যাওয়া ডিমের খোসাগুলিকে মিক্সিতে বা হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে নিন। সমপরিমাণ ডিমের খোসার গুঁড়ো এবং শুকনো চা পাতা একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে একটি এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে রেখে দিন। তৈরি হয়ে গেল আপনার শক্তিশালী অর্গানিক সার।
কীভাবে গাছে দেবেন?
গাছের গোড়ার মাটি সামান্য খুঁড়ে নিন। টবের আকার অনুযায়ী ১ থেকে ২ চামচ এই মিশ্রণ গাছের গোড়া থেকে একটু দূরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন। সার দেওয়ার পর টবে পরিমাণমতো জল ঢালুন। মাসে অন্তত এক থেকে দুবার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন।
আরও পড়ুন: লখনউয়ের লিভ-ইন সঙ্গীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রেমিকার ফ্ল্যাটে মিলল যৌনসামগ্রী!
কেন এটি গাছের জন্য জাদুকরী?
গোলাপ, জবা, জুঁই বা অপরাজিতার মতো ফুল গাছে এই মিশ্রণটি দারুণ কাজ করে। ডিমের খোসার ক্যালসিয়াম মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং চা পাতা মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে গাছ খুব দ্রুত পুষ্টি পায় এবং অল্প দিনেই বাগান ভরে ওঠে ফুলে ফুলে। তাই আজই ডাস্টবিনে ডিমের খোসা ফেলা বন্ধ করুন আর আপনার বাগানকে করে তুলুন আরও সবুজ ও রঙিন।















