উৎসবের মরসুমে ঠাকুর দেখা, রাত জাগা আর দেদার হুল্লোড়ে ক্লান্তি দূর করতে তরুণ-তরুণীদের বাহুতে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত রঙিন স্টিকার। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কোনও চিকিৎসাধীন রোগীর হাতের স্যালাইনের স্টিকার বা আইভি ড্রিপ (IV Drip) প্যাচ। তবে ভালো করে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এটি কোনও অসুস্থতার লক্ষণ নয়, বরং জেন-জি (Gen-Z)-দের স্টাইলিশ ও সতেজ থাকার নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ট্রান্সডার্মাল এনার্জি বা ভিটামিন প্যাচ’, যা বাজারে ‘হাংওভার প্যাচ’ নামেও বেশ পরিচিত।
আরও পড়ুন: শিল্পায়ন-বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানে জোর: নিউটাউন থেকে বাংলার অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী
পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় ঠেলে হাঁটা, রাত জাগা বা বন্ধুদের সাথে লেট নাইট পার্টির ধকল সামলাতে তরুণ প্রজন্ম এখন এই বিশেষ স্টিকারের ওপর ভরসা রাখছে।
বাহুর এই রঙিন স্টিকার আসলে কী?
সহজ কথায়, এটি একটি বিশেষ ধরনের ভিটামিন ও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ স্টিকার। সাধারণ এনার্জি ড্রিঙ্ক বা সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেট খেলে তা প্রথমে পাকস্থলীতে যায় এবং পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরে শোষিত হতে বেশ কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু এই ট্রান্সডার্মাল প্যাচটি সম্পূর্ণ আলাদা। এটি ত্বক বা চামড়ার মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার দাবি করে, যা শরীরে দ্রুত এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: জলাশয় সংস্কারের উদ্যোগ, কুঁদঘাটে দুই সরোবরের নামকরণ মুখ্যমন্ত্রীর
কারা এবং কেন ব্যবহার করছেন এই প্যাচ?
বাজারচলতি এই এনার্জি ও হাংওভার প্যাচগুলির ব্যবহারকারীদের মধ্যে মূলত তরুণেরাই এগিয়ে। তবে উৎসবের দিনগুলিতে এই প্যাচের চাহিদা বিভিন্ন কারণে বাড়ছে। যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে প্যান্ডেল হপিং বা হাঁটাহাঁটি করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা শরীরে এনার্জি ধরে রাখতে এটি বাহুতে আটকে নিচ্ছেন। অনেকেই ক্যাপসুল খেতে বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করতে পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটি একটি সহজ বিকল্প।
বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলিতে যেসব স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশ কর্মীরা দিন-রাত নিরলস কাজ করে যান এবং বিশ্রামের সুযোগ কম পান, তাঁদের ক্লান্তি দূর করতেও এটি সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও মাথা ঘোরা, ভার্টিগো কিংবা মৃদু রক্তচাপের সমস্যা থাকলে সাময়িকভাবে শরীরকে সচল রাখতে অনেকে এই প্যাচ ব্যবহার করছেন।
আরও পড়ুন: টেনেহিঁচড়ে মারধরের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি ব্রিটাসের
চিকিৎসকেরা কী বলছেন? এটি কি আসলেই নিরাপদ?
তরুণদের মধ্যে এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তা বাড়লেও চিকিৎসকেরা কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। তাঁদের মতে, এই প্যাচগুলি সাধারণ ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের মতো সাময়িক কাজ করতে পারে, কিন্তু এটি কখনই কোনো চিকিৎসা বা সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে এই ধরনের প্যাচের কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট দ্বিমত রয়েছে।
ডাক্তারদের দেওয়া কিছু জরুরি সতর্কতা:
সব ভিটামিন শোষিত হয় না: ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর মতো উপাদানগুলি ত্বকের মাধ্যমে দ্রুত শরীরে প্রবেশ করতে পারলেও, যেসব ভিটামিনের অণুর আকার বড় (যেমন— ভিটামিন এ, ই, কে এবং সি), সেগুলি এই প্যাচের মাধ্যমে দ্রুত শরীরে ঢুকতে পারে না।
আরও পড়ুন: "আমার ভাবনায় ছিল...", বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের রহস্য ফাঁস করলেন অভিষেক
জলের ঘাটতি মেটে না: এই প্যাচ লাগানোর মানে এই নয় যে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হবে না। চাঙ্গা থাকতে পর্যাপ্ত জল পান করতেই হবে।
ওষুধের বিকল্প নয়: কারও উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো ক্রনিক রোগ থাকলে, মূল ওষুধ বাদ দিয়ে এই প্যাচ লাগিয়ে ঘুরে বেড়ালে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি: ছোট শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের এনার্জি প্যাচ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফ্যাশন আর উপযোগিতার মেলবন্ধনে তৈরি এই রঙিন প্যাচগুলি ওয়াটারপ্রুফ বা জলরোধী এবং এগুলি লাগাতে কোনো ব্যথাও লাগে না। তবে অন্ধভাবে ট্রেন্ড অনুসরণ না করে, নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।















