নিউটাউনের ওজেইন হোটেলের (Ozein Hotel, Newtown) উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, রাজ্যে বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করতে হবে। মানুষের হাতে কাজ ও  টাকা থাকলেই উৎসবের আনন্দ প্রকৃত অর্থে সার্থক হয়ে উঠবে। মানুষ পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে দুর্গাপুজো উদ্‌যাপন করতে পারবেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন। সেই লক্ষ্যেই উৎসবের মরশুমেও সরকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু উদ্বোধন বা ফিতে কাটার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী ১৪ তারিখ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে (Haldia Petrochemicals) এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: টেনেহিঁচড়ে মারধরের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি ব্রিটাসের

উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রসঙ্গে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের (Chingrighata Metro Project) কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার মাত্র ১৭ দিনের চিংড়িহাটা মেট্রোর কাজ শেষ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য পূরণে ডবল ইঞ্জিন সরকার সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। আর সেই উন্নয়নযজ্ঞে পশ্চিমবঙ্গ যাতে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর আগে ১১ হাজার তরুণ-তরুণী পুলিশে চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বেসরকারি ক্ষেত্রের পাশাপাশি সরকারি ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যে পুলিশকর্মীর সংখ্যার ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ১০৫, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিজেপি-শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় ২০০ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: নবরাত্রির শুরুতেই রেকর্ড রাজস্ব আদায়, সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর

পুলিশবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সিভিক পুলিশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওবিসি ও ইডব্লিউএস-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন কোনও ত্রুটি রাখা হবে না, যার কারণে যোগ্য প্রার্থীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় এই আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাই হবে প্রধান মাপকাঠি। কোনও প্রার্থী যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেন তিনি।

আরও পড়ুন: বারবার আক্রমণের ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট, বিধায়ক কুণালকে সবরকম পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ বিচারপতির

এদিন কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১১ হাজার পুলিশকর্মীর নিয়োগের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হল বলে দাবি করেন তিনি। শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং সরকারি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উৎসবের মরশুমেও কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।