দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। পঞ্জিকা মতে আজ দ্বিতীয়া তিথি। আর মাত্র চার দিন পরেই পুজো অফিসিয়াল ভাবে শুরু। কিন্তু এখনও বামেদের স্টল তৈরি নিয়ে জট কাটছে না। এই বিষয়ে তড়িঘড়ি আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হলে বিচারপতি সাফ জানান, দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোয় স্টল করুক বামেরা। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। 

পালাবদলের বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন বাম সরকার ও সিপিএম নেতাকর্মীদের দেশবিরোধী তকমা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে পুজো কমিটিগুলিকে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে বামেরা এবারের দুর্গাপুজোয় কোনও স্টল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য। এরপর বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। মন্তব্য পাল্টা মন্তব্যের মাঝেই কিছুদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় দুটি বুকস্টল করতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল সিপিএম। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। সোমবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান আইনজীবী। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, এখনই দ্রুত শুনানি করা সম্ভব নয় এবং এই মামলার ক্ষেত্রে সেটাও প্রয়োজনীয়তাও তিনি বোধ করছেন না। এরপর তিনি আইনজীবীকে পরামর্শ দেন, "দুর্গাপুজোয় না হলে কালীপুজোয় বুকস্টল করুন।"

আরও পড়ুন: হাই কোর্টের ছাদে নমাজ পাঠের অভিযোগ, মামলায় আইনজীবীকে যুক্ত করার নির্দেশ

এদিন বামেদের আইনজীবী বিচারপতি ভট্টাচার্যকে বলেন, হাতে আর সময় নেই কারণ চার দিন পরই দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে এই মামলার যৌক্তিকতা আর থাকবে না। তাই যদি এই এজলাসে সম্ভব না হয় তাঁরা অন্য এজলাসে আবেদন করবেন। এরপর বিচারপতি বলেন মঙ্গলবার মামলা ছেড়ে দেওয়া হবে। এদিন আদালতের তরফে খুব স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয় যে বুক স্টলের জন্য যে সংশ্লিষ্ট এলাকার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ উত্তর ২৪ পরগনার কথা, সেখানে কালীপুজো যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাই দ্রুততার সঙ্গে শুনানি সম্ভব না হলে বামেরা দীপাবলিতে স্টল দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু সিপিএম আইনজীবী বিচারপতির পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন,অবিলম্বে অন্য এজলাসে মামলা দায়ের করতে চান। 

দীর্ঘদিন ধরে দুর্গা পুজোর সময় বনগাঁয় যশোর রোডের পাশে পুজোর সময় বুক স্টল করে আসছে বামেরা। সিপিএম নেতাদের দাবি, এবারও তাঁরা পুলিশ-প্রশাসনকে স্টল করার কথা জানিয়েছিলেন।কিন্তু হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লোকেরা সেইসব সরিয়ে নিজেদের স্টল তৈরির কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে গেলে সিপিএম নেতাদের মারধর করা হয়। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ছবি (সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। নৈহাটিতেও বামেদের বুক স্টল করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এখন বিচারপতি ভট্টাচার্য মামলা ছেড়ে দেওয়ার পর পুজোর আগে আদৌ এই সংক্রান্ত জটিলতা কাটে কিনা এখন সেটাই দেখার।