সেনার পোশাক, চোখে রোদচশমা। গাড়িতে লেখা ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’। দেখলে মনে হবে, তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনির কোনও পদস্থ আধিকারিক। নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘স্পেশ্যাল কর্নেল’ (Army Colonel) হিসাবে দিতেন পরিচয়। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে কলকাতার আর্মি ইন্টেলিজেন্স ও নবগ্রাম থানার পুলিশের (Nabagram Police Station) যৌথ অভিযানে গ্রেফতার (Arrest) হলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সাগরদিঘির বাসিন্দা তরুণ দাস।
আরও পড়ুন: ছকে বাঁধা আন্দোলন নয়, 'শিব তাণ্ডবের’ ছন্দেই পথে বিরোধীরা: রাহুল
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই তরুণের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল কলকাতার আর্মি ইন্টেলিজেন্স। তাঁর পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় শুরু হয় খোঁজখবর। এরপর নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে নবগ্রাম থানার পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। অভিযোগ, নিজের পরিচয় সম্পর্কে অন্যদের বিশ্বাস করাতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরতেন তরুণ। ব্যবহার করতেন ভুয়ো পরিচয়পত্রও। তাঁর সাদা চারচাকা গাড়িতে সামনে ও পিছনে লেখা থাকত ‘গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’।
আরও পড়ুন: বিহারে SIR মামলার রায়ে নতুন Form 6-এর বিষয়টি ওঠেনি! ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করল শীর্ষ আদালত
এই সাজসজ্জা ও পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর পদস্থ আধিকারিক বলে জাহির করতেন বলে অভিযোগ। তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাকরির আশায় কতজন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং এই প্রতারণার পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের পরিচয়, পেশাগত যোগ্যতা এবং তাঁর কাছে থাকা নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তিনি কত দিন ধরে এই পরিচয় ব্যবহার করছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। সোমবার ধৃতকে লালবাগ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে খবর। সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার এই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেনায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।















