পুলিশের পোশাকের আড়ালে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নয়, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাও জড়িয়ে রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে বাহিনীর লোকবল বাড়ানো থেকে শুরু করে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) নবনিযুক্ত কনস্টেবলদের (Newly Appointed Constable) নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে রাজ্যের আগামী দিনের নিয়োগ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। তিনি ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশে চার হাজার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের আরও ন’হাজার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে নভেম্বরে। পিএসসির মাধ্যমে ৬৫০ জন গ্রুপ-সি কর্মী নিয়োগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের দিকেই নজর সরকারের।

আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিষয়ক কাজ! অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট-মাইকেল

এ দিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেলেন হাজার হাজার যুবক-যুবতী। রাজ্য পুলিশের ১১ হাজার ৭৪৯টি কনস্টেবল পদের জন্য প্রকাশিত চূড়ান্ত মেধাতালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৯৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ হাজার ২১২ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৩৮১ জন মহিলা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সোমবার সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের কর্মীঘাটতির প্রসঙ্গও। আগামী দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশবাহিনীর সংখ্যা উত্তরপ্রদেশকেও ছাপিয়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তবে ঘোষিত নিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পুলিশবাহিনীতে কতটা ঘাটতি পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নিয়োগের গতি ও বাস্তবায়নের উপর।

নিয়োগের পাশাপাশি পুলিশের কাজের পরিবেশ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এ দিনের অনুষ্ঠানে। মহিলা পুলিশকর্মীদের জন্য পিঙ্ক আরটি মোবাইল ও পিঙ্ক সাপোর্ট মোবাইল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি আরও কার্যকর করতে ৩,৫০০টি বডি ক্যামের দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা সামলাতে সদ্য নিযুক্তদের দ্রুত কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। ডিজিপির বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ তারিখ থেকে তাঁদের পুজোর ডিউটিতে মোতায়েন করা হবে। সেই দায়িত্ব শেষ হলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশকর্মীদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউনিফর্মের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে। তাই আইন মেনে দায়িত্ব পালন এবং কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাই হওয়া উচিত তাঁদের কাজের মূল ভিত্তি।

সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, থানার মূল কাজ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত কনস্টেবল ও পুলিশকর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। বর্তমান সরকার আইনি পথ খুঁজে নিয়োগ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

আরও পড়ুন: বিহারে SIR মামলার রায়ে নতুন Form 6-এর বিষয়টি ওঠেনি! ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করল শীর্ষ আদালত

পুলিশ নিয়োগের পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা নিয়েও এ দিন একাধিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র বকেয়া প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ব্যবধান কমানোর জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বকেয়ার একটি অংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনে ডিএ-র হার আরও বাড়বে। সপ্তম বেতন কমিশনের রিপোর্ট চূড়ান্ত হয়ে সরকারের হাতে পৌঁছলে তা দ্রুত কার্যকর করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। যদিও বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ হিসাব এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে এই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে প্রত্যাশা থাকছেই।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা এবং সরকারি কর্মীদের জন্য বেতন-ভাতা সংক্রান্ত আশ্বাস—দুই বিষয়কেই সামনে রেখে প্রশাসনের আগামী দিনের কর্মসূচি সাজানোর ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতা পুলিশে ডিসেম্বরের মধ্যে চার হাজার নিয়োগ, নভেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশের ন’হাজার পদের বিজ্ঞপ্তি এবং পিএসসির মাধ্যমে ৬৫০ জন কর্মী নিয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়সীমা মেনে পদক্ষেপ করতে হবে সরকারকে। একইভাবে ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে কর্মচারীরা।