বিরোধী জোট I.N.D.I.A-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি নন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের SIR বিরোধিতায় সোমবার লোকসভার সাংসদ রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের অভিযানে CJI-র কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা ছিল। গভীর রাতে খবর মেলে যে সূর্যকান্ত বিরোধী জোটের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়েছেন। কেন? এই সিদ্ধান্তের পিছনেও চারটি যুক্তি প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যেই তা রাহুল গান্ধীকে ইমেইল মারফত জানিয়ে দিয়েছে CJI অফিস।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত দুষ্টু আচরণ এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন বিরোধীদের। রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সব পক্ষই পথে নেমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে। এই আবহে ইন্ডিয়ার সাংসদরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সূত্রের খবর সূর্যকান্ত জানিয়েছেন, যেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে মামলা চলছে, তাই আলাদা করে এই নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো বিরোধীদের মনে করিয়ে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, এই ধরনের অভিযোগ বিবেচনা করা বা তার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করার এক্তিয়ার আদালতের নেই।
গত ১০ অক্টোবর সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দেন রাহুল। শুধু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীই নয়, তরুণ প্রজন্ম ও নাগরিক সমাজকেও আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা। কিন্তু রবিবার রাতেই CJI জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ইন্ডিয়া ব্লকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। সূর্যকান্তর যুক্তি অনুযায়ী, দেশের সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং অন্যান্য ধারার অধীনে আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে। তাই বিরোধীরা যদি তাদের আবেদন নিয়ে মামলা করে সেক্ষেত্রে পরবর্তী তারিখ অনুযায়ী তার শুনানি হতে পারে। কিন্তু আলাদা করে ডেপুটেশন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট দায়বদ্ধ, তাই দেশের যে কোন মানুষের জন্য আদালতের রাস্তা সবসময় খোলা রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু সুপ্রিম বিচারপতি সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ব্লকের এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে? যদিও কংগ্রেসের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে বিরোধীদের কর্মসূচির কথা মাথায় প্রস্তুত দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর ছ’টি মেট্রো স্টেশন সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বন্ধ থাকছে।















