পাঁচ বছরের চুক্তিতে রাজ্যে তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। তাহলে কি পুজোর আগেই চাকরিহারা হবেন কয়েক হাজার শিক্ষক? চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে রাতভর অবস্থান বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার সকালেও কম্পিউটার শিক্ষকরা নিজেদের দাবিতে অনড়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, মিডিয়াতে দেখানো হচ্ছে তাঁরা চাকরির স্থায়ীকরণ চাইছেন যেটা সম্পূর্ণরূপে ঠিক নয়। তাঁরা চাইছেন চাকরির নিরাপত্তা, আর যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তি আসছে তাঁরা আন্দোলন থামাবেন না।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ২০২২ সাল নাগাদ একাধিক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল রাজ্যের সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলে। কোন শিক্ষকের কাজের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই বছরের শেষে, কারও আবার আগামী বছরের শুরুতে। তারপর কী হবে? কী ভাবছেন নতুন সরকার? কোন পদক্ষেপের পথে শিক্ষা দফতর? নিজেদের কর্মজীবনের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হাজার খানেক কম্পিউটার শিক্ষক সোমবার বিকাশ ভবন অভিযান করেন। পুলিশ তাদের পথ আটকালে মাদ্রাসাতেই বসে পড়ে দাবি করেন সরকারের তরফ থেকে অবিলম্বে চাকরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাতভর সেখানেই ছিলেন তাঁরা। এদিন সকালেও ছবিটা বদলায়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছিল তারা চিঠি দিয়ে সম্প্রতি জানিয়েছে বেশ কিছুজনের চাকরির মেয়াদ এই মাসে এবং অনেকের এই বছরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারপরই চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও তাদের রেগুলার টিচার করেনি সরকার। এমনকি গত কয়েক মাসে বেশ খানিকটা বেতন কমেছে। এটাই সমস্যায় পড়েছে শিক্ষকদের পরিবার। পাশাপাশি এই খাতে সরকার পরিবর্তনের পর টাকা কমিয়ে দেওয়ায় ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ চালাতে সমস্যা বাড়ছে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও। প্রতিবাদে সরব এক শিক্ষিকা বলেন পুজোর আগে আমাদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্কুলের পড়ুয়াতে যেভাবে সাহায্য করলাম এতদিন ধরে এটা কি তার প্রতিদান? অপর এক শিক্ষকের কথায়, সংবাদ মাধ্যমের একটা অংশ ভুল তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা শুধু চাইছি আমাদের চাকরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এখনো পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে এই নিয়ে অফিসিয়াল কোনও ঘোষণা হয়নি।
















