ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে এবার সরব প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। তাঁর দাবি, চলতি SIR প্রক্রিয়া আইনসঙ্গত নয় এবং এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। বুধবার ‘The Delimitation Debate: The Union and its Units’ বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে SIR নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ভারতের ১৭তম CEC। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর কথায়, “প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই আমি বলছি, এটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত। আর আজ প্রকাশ্যে এসেছে যে এটি বেআইনি।”

কুরেশিরের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও ত্রুটিহীনতা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের আইনি দায়িত্ব। গত ৭৫ বছর ধরে কমিশন সেই কাজ করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু বর্তমান SIR প্রক্রিয়ায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমি এর বিরোধিতা করছি অনেকদিন থেকেই। আর আজকের প্রকাশিত তথ্য আসলে বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনাররাই অনুসরণ করা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর ফলে সিদ্ধান্তটির বৈধতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আর সমস্ত বেআইনি সিদ্ধান্তই প্রত্যাহার করা উচিত।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস SIR এবং আসন পুনর্বিন্যাস বা delimitation-এর মধ্যে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই দুই প্রক্রিয়া এমনভাবে করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পায়। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও delimitation নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টিকে শুধুমাত্র উত্তর বনাম দক্ষিণের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, মিজোরাম, মেঘালয় ও অসমের মতো ছোট এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিরও এই নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রমেশ বলেন, “এটিকে শুধুমাত্র উত্তর-দক্ষিণের বিষয় বলা যথেষ্ট নয়। এটি আরও বিস্তৃত একটি বিষয়। পঞ্জাব, হরিয়ানা, মিজোরাম, মেঘালয় এবং অসম—এই সমস্ত ছোট ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যের উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন পরামর্শ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে একেবারেই কোনও পরামর্শ করা হয়নি।”

অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন, আসন পুনর্বিন্যাস, প্রতিনিধিত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মতো বিষয়গুলি উঠে আসে। SIR ও delimitation নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।