পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬' পেশ হতেই বিলের অপপ্রয়োগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ বিরোধীদের। রাজ্য সরকারের (Govt of West Bengal) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিল পাশ হলে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নতমানের শিক্ষা পৌঁছে দিতে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে অন্যত্র বদলি করতে কোনও সমস্যা হবে না। সেক্ষেত্রে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় উপকৃত হবে। এদিন বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু হতেই বিরোধীদের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন তাড়াহুড়ো করে এই বিল পাশ করিয়ে আইন চালু করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার? এই আইন এলে বদলির ক্ষেত্রে অধ্যাপকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে কিনা তাও এই বিল থেকে স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি এই বিল আইনে পরিণত করে বদলের অছিলায় ‘প্রতিবাদীদের’ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
শিক্ষানীতির সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্যান্য বড় পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকতা করেছেন,তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। এদিন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়িকা আলিফা আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, হঠাৎ করে যদি অধ্যাপকদের বদলি হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে যাঁরা গবেষক ছাত্রছাত্রী রয়েছেন তাঁদের সমস্যা হতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া দরকার। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে। একই সুর শোনা যায় বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের কথাতেও।
এ দিন বিরোধীরা বলেন এই আইনের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে গেরুয়াকরণের চেষ্টা করছে। যাঁরাই ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধিতা করবে তাঁদের টার্গেট করার প্রবণতা স্পষ্ট। শিক্ষাক্ষেত্রের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা সেক্টরে এই ধরনের মানসিকতা কাঙ্খিত নয়।
















