ক্যালেন্ডারের হিসেব বলছে বাঙালির প্রিয় উৎসব আসতে আর মাত্র ৪৯ দিন বাকি। শ্রেষ্ঠ উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হওয়ার প্রস্তুতির মাঝেই বঙ্গবাসী বাঙালির পুজো স্পেশাল আমিষ মেনুতে কোপ বসাতে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Vishva Hindu Parishad)! সূত্রের খবর বাংলার পুজো কর্তাদের নাকি মন্ডপের আশেপাশে যাতে আমিষ খাবার বিক্রি না হয় সেই দিকে বিশেষ লক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে। VHP-র দাবি মাতৃপ্রতিমা এবং সনাতনী ধর্মের পবিত্রতার কথা মাথায় রেখে নাকি এমন সিদ্ধান্ত। কেউ না মানলে, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনের বাংলায় এবার বাঙালির শারদোৎসব আমিষ খাবার বিক্রি নিয়ে আপত্তি VHP-র। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে কলকাতার ময়দানে গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে গেরুয়া দলের কর্মী নেতাদের মারধরের ঘটনার কথা সকলেরই জানা। এবার টার্গেট করা হচ্ছে দুর্গাপুজোকে। শারদীয়ার আগমনের পাঁচ দিন ধরে বাঙালি একটা গোটা বছরের বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পায়। উৎসবে দিনগুলোতে খাওয়া-দাওয়া, হইহুল্লোড়, আনন্দের মধ্যে দিয়ে মহাপুজোর পরিপূর্ণতা ধরা দেয়। সেখানে প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দের খাবার খেতে পারেন। কোথাও কোন নিষেধাজ্ঞা বা নিয়মের বেড়াজাল থাকে না। এটাই বাংলার সংস্কৃতি। আর সেই পুজোর সময় কিনা প্যান্ডেলের আশেপাশে আমিষ খাবার বিক্রিতে কোপ? বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের বক্তব্য, “পুজোয় মাংস পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, সেটা আমরা বলছি না। কিন্তু মণ্ডপের আশেপাশে সেটা না করাই ভালো।” এই কথা প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা আর নিন্দার ঝড়। 

ডবল ইঞ্জিন রাজ্য বাংলায় কি এবার সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভাবনাও গুরুত্ব হারাবে। ভিএইচপির কথায় অনেকটা সেরকমই ইঙ্গিত। তাদের এক নেতা ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই স্লোগানেও আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “হিন্দু সংস্কৃতি, আবেগ এবং আধ্যাত্মিকতা পালন করবে শুধু সনাতনীরাই। ধর্মও যেমন প্রত্যেকের ব্যক্তিগত, তেমনই উৎসবও প্রত্যেকের ব্যক্তিগতই।অন্য ধর্মের কেউ চাইলে পুজো প্যান্ডেলে আসতেই পারেন। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মের রীতিনীতি রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু হিন্দুদেরই।” অর্থাৎ বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না পারলেও পুজোর আবেগকে কাজে লাগিয়ে ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদের রাজনীতি করতে মাঠে নেমে পড়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। রাজ্যের বিজেপি নেতারা কী বলছেন? প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এটাই পালাবদলের বাংলা।