রক্ত, প্লাজমা পাচারসহ একাধিক বেনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল স্বাস্থ্য ভবন (Swasthya Bhawan)। সেই তালিকায় ছিল, পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক (People's Blood Bank), অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক (Ashok Blood Bank) ও কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ নিয়ে চলছিল টানাপোড়েন। অবশেষে শর্তসাপেক্ষে এই তিন ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হল। 

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায় রক্ত পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য ভবন সব ব্লাড ব্যাঙ্ককে মুচলেকা দিতে বলে। আরোপ করা হয় একাধিক শর্ত। জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। এরপর কয়েকটি ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্তাদের তরফে স্বাস্থ্য ভবনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের জীবন নিয়ে কোন রকমের ছেলে খেলা করা বা দুর্নীতি বরদাস্ত হবে না। রাজ্যে যখন রক্ত সংকট তখন চড়া দামে ভিন রাজ্যে রক্ত বিক্রি করার যে চক্র গড়ে উঠেছে তা বন্ধ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। জানা গিয়েছে, হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক, আলিপুরের কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকও করেন মন্ত্রী। এরপরই স্বাস্থ্য ভবনের শর্তে রাজি হয়ে মুচলেকা জমা দেয় সংশ্লিষ্ট ৩ ব্লাড ব্যাঙ্ক। তারপরই শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মোট ১২ টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপরে জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। এখনও পর্যন্ত ৫ ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট তিন ব্লাড ব্যাঙ্ক রক্তদান শিবির থেকে যথেচ্ছ রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না, রক্ত সংগ্রহের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করা যাবে না, এবং স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়া ভিন রাজ্যে পাঠানো যাবে না রক্ত ও প্লাজমা। ৭ ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। রক্ত পাচারের দুর্নীতির তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের হাতে কাটমানি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উঠে আসে। দেখা যায় বিভিন্ন শিবিরে জুনিয়র ডাক্তার বা ইন্টার্ন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্ত সংগ্রহের জন্য। মেডিক্যাল পড়ুয়াদের চিকিৎসক সাজিয়ে জেলায় জেলায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হতো। বিনিময়ে ওই হবু ডাক্তাররা নির্দিষ্ট অংকের টাকা পেতেন আর বাকিটা চলে যেত ছাত্র নেতাদের হাতে। এসএসকেম হাসপাতাল, এনআরএস, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের শত শত ডাক্তারি পড়ুয়া এইভাবে কাটমানি পেতেন বলে জানতে পেরেছে স্বাস্থ্য ভবন। এই ঘটনায় আর কারা কারা যুক্ত তা জানার চেষ্টা চলছে।