দেশজুড়ে জেন জি (Gen Z) উত্থানের জেরে এবার মোদি মন্ত্রিসভা নতুন করে ঢেলে সাজানোর ভাবনা বিজেপির? সোমবার সন্ধ্যায় সেবা তীর্থে প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে এমন জল্পনাই ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। এর আগে ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সচিবদের কাজের পর্যালোচনা করেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মনে করা হচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Elections 2029) যুব প্রজন্মের ভোটের কথা মাথায় রেখে 'যুব মুখ'কে প্রাধান্য দিতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব।সেই দৌড়ে অনুরাগ সিং ঠাকুর, তেজস্বী সূর্য এবং বাঁশুরি স্বরাজদের সঙ্গে বাংলা থেকে সৌমিত্র খাঁ-র নামও ঘোরাফেরা করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

 

নিট (NEET) আন্দোলনে জেরে দেশজুড়ে যেভাবে জেন জি-দের উত্থান হয়েছে তাতে কিছুটা হলেও উদ্বেগ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মনে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কখনও মধ্যরাতে রিল বানাচ্ছেন, আবার কখনও নিজের চিরাচরিত স্টাইলের বাইরে গিয়ে 'ফ্রেন্ডস' বলে সম্বোধন করছেন ভিডিও বার্তায়। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে "দিমাগী নকশাল"বলে যে মন্তব্য করেছিলেন মোদি, তার বিরোধিতায় সরব হয়েছে সিজেপি (CJP)। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিরুদ্ধাচারণ করেছে তরুণ প্রজন্মও। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবং আগামী ২০২৯ সালের নির্বাচনে যেহেতু ভোটারদের একটা বড় সংখ্যা হচ্ছে জেন জি, সেই কথা মাথায় রেখে এবার মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলে তরুণ প্রজন্মকে সামনে তুলে ধরতে চাইছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার! মনে করা হচ্ছে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জনসংযোগ এবং তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠির গুরুত্ব বুঝে মন্ত্রী নির্ধারণের ভাবনা চলছে। সেক্ষেত্রে পদ্ম দল প্রথমবার বাংলা দখলের পর ডবল ইঞ্জিন এই রাজ্য থেকে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁকেও তালিকায় রাখতে চাইছেন অমিত শাহরা।

 

যেহেতু লোকসভা নির্বাচনের আগে আর মাত্র দু বছর সময় হাতে রয়েছে, তাই বিজেপির সামনে এখন শুধু সরকারের কাজের হিসাব নয় বরং আগামী দিনের পদ্ম দলের নেতৃত্বের মুখ তৈরি করার প্রশ্নও রয়েছে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় প্রজন্ম বদলের বার্তা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক চর্চায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বের ভিত শক্ত করার পাশাপাশি সংগঠনে গতি আনা এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ মোটেই সহজ হবে না। বিজেপি তা জানে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করেছেন। প্রতিশ্রুতি পালন হয়েছে কিনা তা নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে পাশাপাশি কাজের খতিয়ান যে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে সেই জল্পনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব শেষমেশ কোন সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় সেটাই দেখার অপেক্ষা।