ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের (Flash Flood in Nepal) দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ বেড়ে প্রায় সাতশোর কাছাকাছি। বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন, ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিধ্বস্ত উত্তর নেপাল। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে ফের আশঙ্কার কালো মেঘ, কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা ICIMOD জানিয়েছে এই মুহূর্তে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে এখনও একটি বিশাল প্রাকৃতিক বাধা আটকে রয়েছে। সেটি যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে ফের নেমে আসতে পারে জলের স্রোত! অর্থাৎ ভয়াবহ হড়পা বানের পরেও বিপদ কাটেনি।
পাহাড়ে আটকে থাকা বিপুল জলরাশি ও ধ্বংসাবশেষ যদি নেমে আসে তাহলে ফের বড় দুর্যোগের মুখোমুখি হবে নেপাল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নুয়াকোট ও ধাদিংয়েও চলছে পর্যবেক্ষণ।বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গালছিতে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার বেড়েছে, মালেখুতেও একই সময়ে জল বেড়ে গেছে প্রায় ৭ মিটার। এত দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধিই আচমকা বিপুল জল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। জিলং বন্দরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
আচমকা হড়পা বানে উত্তর নেপালে ভেসে গিয়েছে একের পর এক এলাকা। নিশ্চিহ্ন বহু গ্রাম। জাতীয় সড়ক ডুবে রয়েছে কাদায়। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ১৬৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী নিখোঁজ। উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের নিরাপত্তাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ভারতীয় ছাড়াও ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। বুধবারই ফোনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-র সঙ্গে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। নয়াদিল্লি থেকে অন্তত ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
















