নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করার পরই পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। কিন্তু এই মুহূর্তে কোথায় তিনি? পুলিশ গ্রেফতার করার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও খবর নেই মিলনের। তাহলে কি রাতের অন্ধকারেই তাকে দিয়ে কোন কিছু লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে? আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের (Subhankar Sarkar)। তিনি ইতিমধ্যেই হলদিয়া রওনা হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। উপনির্বাচনের একজন প্রার্থীর এত বড় একটা ঘটনা ঘটার পরও নির্লিপ্ত নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। মিলনের গ্রেফতারি আসলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতন্ত্রের হত্যা, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi)।

মিলনের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাহুল গোটা ঘটনাকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' ও 'গণতন্ত্রের হত্যা' বলে তোপ দেখেছেন। যেভাবে মমতার সমর্থন আসার পর উপর নির্বাচনের ঠিক আগে পুরনো মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, বিজেপি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না—তাই তারা ভোট চুরি, সরকারি ক্ষমতা দখল এবং দল ভাঙানোর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চায়।তারা নির্বাচনে লড়তে চায় না, তারা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই শেষ করে দিতে চায়।কংগ্রেস ভয় পাবে না, মাথাও নত করবে না।আমরা লড়াই করব এবং আমরাই জিতব।' 

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে পুরনো মামলায় গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী, 'স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আচরণ' তোপ কুণালের

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে শুভঙ্কর একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে লিখেছেন, 'আজ বিকালে প্রচার সেরে ফিরে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডিপুরের একটি হোটেলে ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। সেখান থেকে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কংগ্রেস পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্যকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ তাঁদের কেন নিয়ে গেছে, কেন গ্রেফতার করেছে, কোন ধারায় গ্রেফতার করেছে - এখনও পর্যন্ত আমরা কিছুই জানতে পারিনি। এমনকি আমি পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে যখন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলি, তাঁরা অদ্ভুত কথা বলছেন - বলছেন পুলিশ কেন নিয়ে গেছে, পুলিশ কি আমাদের বলবে!'

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি আরও লিখেছেন, 'সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল, যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে, তখন সমস্ত পুলিশ-প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। অথচ পুলিশও বলছে না তাঁদের কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কোন থানায় রাখা হয়েছে।এটা সামগ্রিকভাবে একটি ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা আশঙ্কা করছি, রাতের অন্ধকারে মিলন প্রধানকে দিয়ে কোনও কিছু সই করিয়ে নেওয়া হতে পারে, কোনও কিছু বলিয়ে নেওয়া হতে পারে, লিখিয়ে নেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের পক্ষে এটা একটা অত্যন্ত বিপদজনক সময়।এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, বিজেপি বারবার এই দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের কাঠামোটাকেই ধ্বংস করতে চাইছে। তারা দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোক ছাড়া আর কাউকে তারা অংশ নিতে দিতে চায় না। বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখিয়ে, পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইছে।' 

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির তরফে এই ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আইনি পথে লড়াই চলবে বলে জানিয়েছেন শুভঙ্কর।এত বিপুল জনসমর্থন নিয়ে যে সরকার কয়েক মাস আগে ক্ষমতায় এল, চার মাসের মধ্যে তাদের জনসমর্থনের ভিত কতটা টলে গেছে যে, সামান্য একটা উপনির্বাচনে জেতার জন্য কখনও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক বাতিল করছে, কখনও প্রশাসনকে ব্যবহার করে কংগ্রেস প্রার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিজেপির এই প্রতিহিংসামূলক আচরণের বিরোধিতায় গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে পথে নেমে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে।