বৃহস্পতিবার রাতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন নামে সিলমোহর দিল নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দলের নতুন নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’; প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। ‘খাম’ প্রতীকে লড়বে ঋতশিবির, নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস‘।
দুই শিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর কোনও পক্ষকেই জোড়াফুল প্রতীক দেয়নি নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এমনকী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) নামটাও ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ঘিরে জটের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায় (ঋত-গোষ্ঠী)-কেউই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ ঘাসের উপর জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে দুপক্ষকেই আলাদা নামে এবং কমিশনের নির্ধারিত মুক্ত প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। নির্দেশে বলা হয়, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের পছন্দমতো তিনটি সম্ভাব্য নাম এবং তিনটি মুক্ত প্রতীকের বিকল্প ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবে। কমিশন সেই তালিকা থেকে একটি নাম এবং একটি প্রতীক অনুমোদন করবে, যা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রার্থীরা চলতি উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
সেই মতো আপত্তি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ তিনটি বিকল্প নাম এবং দু’টি প্রতীক কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছিলেন মমতা। নামগুলি ছিল— সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস, সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ এবং ‘ক্রিকেট ব্যাট’ দেওয়া হয়। তৃতীয় নামে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। প্রতীক ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’।
অরূপ রায়রা যে তিনটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠান সেগুলি- জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ও পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড ও ব্যাটারি টর্চের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও খাম প্রতীকে লড়তে হবে ঋতপন্থীদের।
কমিশনের নথি অনুযায়ী, রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দুই পক্ষই পৃথক পৃথক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে তাঁদের তৃণমূল প্রার্থী বলে দাবি করেছিল। এখন সেখানে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কী হয়- সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
















