তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীককে ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্দেশকে বিরুদ্ধে আগেই প্রতিবাদে সরব হয়েছিল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এবার এই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন লোকসভা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমর্থনের জন্য রাহুল গান্ধীকে পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ।

 বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং নাম আপাতত ফ্রিজ করা হচ্ছে। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির বা ঋতব্রত গোষ্ঠী কেউই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এর পরই দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিবাদে সরব হয়।

 শুক্রবার সকালে সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী। এই ইসুতে তিনি শিবসেনা এবং এনসিপি দলের ভাঙনের কথা উল্লেখ করেছেন। রাহুল গান্ধী লিখেছেন, প্রথমে শিবসেনা তারপর এনসিপি এখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকবারই একইভাবে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে একটি দলকে টুকরো করে তারপর তাদের নির্বাচন প্রতীক ছিনিয়ে নেয়। 

একইসঙ্গে তির্যকভাবে মন্তব্য করেছেন, ভোটচুরি, সরকারচুরির পর এবার দলচুরি। এটাই আমাদের গণতন্ত্রের অধোগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। যখন দল চুরি হয়ে যেতে পারে তখন কোটি কোটি ভারতবাসীর ভোটও চুরি হতে পারে। এতে অবাক হওয়ার কী আছে

 কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও লিখেছেন, জনগণের রায়কে মান্যতা দেওয়ার যাদের দায়িত্ব অথচ বাস্তবে তারাই সেইসব শক্তিকে সহায়তা করছে যারা জনগণের রায়কে নস্যাত করে দেয়। নিজের পোস্টের শেষ অংশে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, এই লড়াই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয় এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দল এমনকি প্রতিটি ভোটারের লড়াই যারা অবাধ এবং নির্বাচন চান। রাহুল গান্ধীর এই পোস্ট শেয়ার করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুনাল ঘোষ। তিনি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

 আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। তারা মনোনয়নে জমা দিয়েছেন কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবিরকে তাদের প্রতীক এবং দলের নাম বদল করতে হবে। ইতিমধ্যেই মমতা পন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত গোষ্ঠী উভয়ই তিনটি প্রতীক এবং দলের নাম বেছে নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে মমতা পন্থী তৃণমূল কমিশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে পারেন।