‘সেক্স টয়’ বা শারীরিক ম্যাসাজার আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষেত্রে শুল্ক দফতরের (কাস্টমস) এক্তিয়ার কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। ১৯৬২ সালের শুল্ক আইনে এই ধরনের সামগ্রী সরাসরি নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে কি না এবং কর্তৃপক্ষ কোন আইনি যুক্তিতে তা আটকাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে চায় আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে হলফনামা আকারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি স্মিতা দাস দে। 

সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক সংস্থার তরফে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। মামলাকারী সংস্থার বক্তব্য, ১৯৬৪ সালের শুল্ক বিজ্ঞপ্তিতে অশ্লীল বই ও ছবির সঙ্গে সেক্স টয়কেও ‘অশ্লীল’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে ‘বডি ম্যাসাজার’ বা ‘সেক্স টয়’কে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যায় না। তাদের যুক্তি, দেশের প্রকাশ্য বাজারে এবং অনলাইন ই-কমার্স মাধ্যমে এই সামগ্রীগুলি সহজলভ্য। ফলে আমদানিতে বাধা দিলে তা ব্যবসায়ীদের মৌলিক অধিকার ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। 

যদিও কাস্টমসের পক্ষ থেকে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রাথমিক আপত্তি তোলা হয়। তাদের দাবি, কাস্টমস আইনের ১২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার না চেয়ে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করা আইনসঙ্গত নয়। তবে কাস্টমসের সেই আপত্তি পুরোপুরি মেনে নেয়নি আদালত। হাই কোর্টের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, এটি কেবল তথ্যের সংঘাত নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন। কোনও কর্তৃপক্ষ যদি সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া স্রেফ ব্যক্তিনির্ভর নৈতিকতার ধারণা থেকে কোনও সামগ্রীকে ‘নিষিদ্ধ’ বলে ঘোষণা করে এবং তার ফলে কোনও নাগরিকের বৈধ ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তবে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। কোন আইনের অধীনে এই পণ্যগুলিকে আটকে রাখা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ শুনানি ধার্য রয়েছে।