উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় সেমিস্টার চলাকালীন বিদ্যালয়গুলিতে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম আয়োজনের নির্দেশিকা নিয়ে শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের অতিরিক্ত কর্মসূচি পড়ুয়াদের মনোযোগ ও প্রস্তুতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ।
শিক্ষা দফতরের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৬ সেপ্টেম্বর স্কুলগুলিতে বক্তৃতা, অঙ্কন ও নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে ‘২০৪৭ সালের স্বপ্নের ভারত’ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দফতরের বক্তব্য, ওই দুটি নির্দিষ্ট দিনে সেমিস্টারের কোনও লিখিত পরীক্ষা রাখা হয়নি, ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশের মতে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পরীক্ষার পর্ব চলায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্বভাবতই কিছুটা পড়াশোনার চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই পরীক্ষার ফাঁকে পাওয়া দিনগুলিকে প্রস্তুতির কাজেই ব্যবহার করতে দিলে পরীক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হতো।
একই সঙ্গে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের একটি উদ্যোগ ঘিরেও বিদ্যালয় স্তরে বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। যেহেতু ওই সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকে, তাই অনেক স্কুল বিষয়টি পড়ুয়াদের নিজস্ব উদ্যোগের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
শিক্ষাবিদদের একটি অংশের বক্তব্য, সহশিক্ষামূলক বা সৃষ্টিশীল যে কোনও কার্যক্রমই প্রশংসনীয়, তবে পরীক্ষার নির্ঘণ্টের সঙ্গে তা কীভাবে আরও সুষমভাবে মেলানো যায়, সে বিষয়ে হয়তো ভবিষ্যতে আরও কিছুটা সমন্বয়ের সুযোগ থেকে যায়।
















