ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রাজ্যজুড়ে পাতা প্রতারণার জাল অবশেষে গুটিয়ে দিল পুলিশ। বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া এলাকার গুডশেড রোডের একটি তিনতলা ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক চক্রের হদিস পেয়েছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ঘটনায় সংস্থার মূল পাণ্ডা অরিত কুমার ও তাঁর স্ত্রী রিমি দাস ছাড়াও পাঁচজন মহিলা কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় একটি ভুয়ো ঋণদান সংস্থা খুলে সাইবার প্রতারণার কারবার চলছিল। সাধারণ মানুষকে সহজে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে প্যানকার্ড ও আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করা হতো। এরপর ঋণ অনুমোদনের জন্য ভুয়ো 'প্রসেসিং ফি' চাওয়া হতো এবং গ্রাহকদের কাছে কিউআর কোড পাঠানো হতো। গ্রাহক সেই কোডে ক্লিক করা মাত্রই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট হয়ে যেত জমানো টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে এক সুসংগঠিত চক্রের ছবি। তিনতলা ওই ভবনেই কর্মীদের প্রশিক্ষণ, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। পুরনো এবং নতুন কর্মীদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কোচবিহার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের টার্গেট করত এই চক্রটি।
বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ার পর পুলিশ বিভিন্ন ভুয়ো সিমকার্ডের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে। এক সিম বিক্রেতার থেকে তথ্য পাওয়ার পরই ওই অফিসে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ, আটটি মোবাইল ফোন, ১২টি সক্রিয় সিমকার্ড, প্রচুর স্ট্যাম্প ও স্ট্যাম্প পেপার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫৮০০ জন সম্ভাব্য গ্রাহকের মোবাইল নম্বরের একটি তালিকা, যাঁদের পরবর্তী শিকার বানানোর পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
















