বিজেপি রাজে যেভাবে বাবা জ্ঞানেশ কুমার ছড়ি ঘোরাচ্ছেন ঠিক একইভাবে ময়দানে হাজির তাঁর কন্যা মেধা রূপম (DM Medha Roopam)। মেধা উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর (নয়ডা) জেলার জেলাশাসক। বাবা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হয়ে নিজের ইচ্ছেয় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোট কেড়ে নিয়েছেন। এদিকে মেয়ে ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট একজন নিরপরাধকে ৫ মাস জেল খাটালেন। এর জেরে এবার এলাহাবাদ হাই কোর্ট তীব্র ভর্ৎসনা করল মেধাকে। তাঁর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আদালতের মন্তব্য, "আমলাদের আনুগত্য সংবিধানের প্রতি হওয়া উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি নয়।" 

আরও পড়ুন: ”মাছ ছাড়া অন্য কিছুই খাই না”: পুজোয় আমিষ বিতর্কে দিলীপের এককথার জবাব

চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরীকে (Akriti Chowdhury) জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন জ্ঞানেশ-কন্যাই। গত ১২ এপ্রিল নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয় আকৃতিকে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আকৃতি এর পরে টানা পাঁচ মাস জেল হেফাজতে ছিলেন।  গত ২ সেপ্টেম্বর আকৃতির বিরুদ্ধে জারি হওয়া NSA-র ধারা প্রয়োগকে খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। 

মঙ্গলবার বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আকৃতিকে এতদিন আটকে রাখা তাঁর 'জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার, অর্থাৎ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।' আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ভিত্তি হিসেবে দেওয়া তথ্যপ্রমাণ যথেষ্ট ছিল না বলে আদালত জানিয়েছে। সেখানেই জ্ঞানেশের কন্যার (DM Medha Roopam) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাহাবাদ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালতের মতে, মেধা মত প্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তাঁর সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন। আকৃতিকে যে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালত দিয়েছে, ওই অর্থ মেধা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য আধিকারিকদের বেতন থেকে দেওয়ার কথাও বলেছে আদালত। 

একইসঙ্গে সামগ্রিকভাবে আমলাতন্ত্র এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি অচল সচদেবের বেঞ্চের কঠোর পর্যবেক্ষণ- পুলিশ এবং আমলাদের মনে রাখা উচিত, তাঁরা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে নয়। তাঁদের এমন আচরণ করা উচিত নয়, যাতে তাঁদের 'ব্রিটিশ আমলের দমনপীড়নের বাহকের' মতো দেখায়।

দুই বিচারপতির বেঞ্চ, জর্জ অরওয়েলের লেখা '১৯৮৪' নামের বিখ্যাত উপন্যাসের দিকে ইঙ্গিত করে কড়া ভাষায় বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের আমলারা নিজেদের শুধরে না নিলে অচিরেই রাজ্যটা 'সম্পূর্ণ জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে' পরিণত হবে। 

আরও পড়ুন: দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে মৃত অর্পিতের চক্ষুদান করল পরিবার

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক অরওয়েল ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর '১৯৮৪' উপন্যাসে ভবিষ্যতের এমন এক স্বৈরতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কথা বলেছিলেন, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তা, এমনকি ইতিহাস পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করবে এক সর্বগ্রাসী সরকার।