রাজ্যে ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, হাসপাতালগুলিকে সতর্ক থাকার কথা বলেছে স্বাস্থ্য ভবন। যদিও পুরমন্ত্রী অগ্রিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) গলায় অন্য সুর। বলেন, গতবারের থেকে এবারে ডেঙ্গি সংক্রমিতের সংখ্যা কমেছে। তবে সরকারের লক্ষ্য সংখ্যাটাকে একেবারেই 'শূন্য'তে নিয়ে আসা সেই কারণে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার ডেঙ্গি সচেতনতা প্রচারে প্ল্যাকার্ড হাতে বিধাননগরের রাস্তায় দেখা গেল মন্ত্রীকে।

এদিন সকাল সকাল বাগুইআটি এলাকার চাউল পট্টি থেকে ডেঙ্গি সচেতনতার মিছিল করেন অগ্নিমিত্রা। রয়েছেন বিধাননগর পুরসভার পদাধিকারীরাও।স্বাস্থ্য ভবনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্ষার শেষ ল্যাপে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রাজ্য সরকারের তরফে বারবার পুরসভা, হাসপাতাল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পরিচিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। এদিন অগ্নিমিত্রা ডেঙ্গি সচেতনতামূলক পোস্টার হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষকে এই সংক্রমণ সম্পর্কে অবগত করেন। সরকারি নির্দেশ মেনে কোন কোন নিয়ম মানতে হবে সে কোথাও বুঝিয়ে দেন পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের বারের চেয়ে এবারে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কম। উদাহরণ হিসেবে বিধাননগর এলাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। তবে যাতে সংক্রমণের সংখ্যা শূন্য হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার, বলেও মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা। এদিনের মিছিল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বক্তব্য, 'সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে আবর্জনা জমা না হয় এবং সেরকম কিছু ঘটলে যাতে দ্রুত পুরসভাকে জানানো হয় সেই কথা বলা হয়েছে। স্বচ্ছ অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আমরা পেনাল্টিও শুরু করেছি। ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা কমানো আমাদের লক্ষ্য নয় টার্গেট হল জিরো করা। নতুন সরকারের আমলে সারা পশ্চিমবঙ্গে আমরা কোনও ডেঙ্গি চাই না।' 

পুরমন্ত্রীর দাবি, 'রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই রাস্তা-ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার, ক্যানাল গুলো পিডব্লিউডিকে দিয়ে পরিষ্কার করানোর কাজ শুরু হয়েছে। সাফাই কর্মীদের কাজে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। স্বচ্ছ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপ এ বছর ডেঙ্গি কমাতে সাহায্য করেছে।' ইতিমধ্যেই সমস্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্তের সব তথ্য নিয়মিত স্বাস্থ্য ভবনকে জানানোর জন্য স্বাস্থ্য দফতরের (Health Department) তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে হাসপাতালে মজুদ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।