নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে আচমকা ধস নেমে বিপর্যস্ত হয়ে যাওয়া ট্রেন পরিষেবা আপাতত স্বাভাবিক হয়েছে। প্রায় ৬৫ ঘণ্টা ধরে মেরামতির কাজ চলার পর শনিবার রাত থেকেই দূরপাল্লার ট্রেন গুলির যাতায়াত শুরু হয়। রবিবার সকালেও পরিষেবার স্বাভাবিক রয়েছে বলে খবর মিলেছে। হাওড়া - শিয়ালদাহ থেকে আপ ও ডাউন লাইনে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচলে আপাতত কোনও সমস্যা নেই। 

টানা বৃষ্টির জেরে রেল ট্র্যাকের মাটি আলগা হয়ে ধস নামে তিলডাঙ্গা ও নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে। বৃহস্পতিবার থেকে বিঘ্নিত হয় পরিষেবা। শুক্রবার ফির ধস নামে। একের পর এক ট্রেন বাতিল হতে থাকে, যার ফলে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। কিছু ট্রেন ঘুরপথে চালানোর পরিকল্পনা নেয় পূর্ব রেল। এরপর টানা ৬৫ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে মেরামতির কাজ। বৃষ্টির জেরে বারবার কাজ ব্যাহত হলেও শনিবার সকালের মধ্যে ওভারহেডের তারের কানেকশন এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়। সফল হয় ট্রায়াল রান। এরপর ইন্সপেকশন ট্রেন চালিয়ে ট্র্যাকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন বিশেষজ্ঞরা। দফায় দফায় পরীক্ষার পর কার্যত স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। রেলের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে রাতের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক হতে পারে। সেই মতো শনিবার সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে নতুন করে আর কোনও ট্রেন বাতিলের ঘোষণা হয়নি।

 প্রাথমিকভাবে যতই মনে করা হোক না কেন বৃষ্টির কারণে মাটি আলগা হয়ে ধস নেমেছিল, রেল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে এবার রেল ট্র্যাকে ভূমিধসের প্রকৃত কারণ জানতে খড়গপুর আইআইটির সাহায্য নিতে চলেছে বলে খবর। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কথা অনুযায়ী, এই ধরনের বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে চায় রেল। সেই কারণেই আইআইটি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার ভাবনা। আগামী তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে রিপোর্ট জমা পড়ল স্থায়ী প্রতিরোধের কাজ শুরু করবে রেল।