জোর করে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ঢুকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার ঘটনায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল মমতাপন্থী তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গেছে কলকাতা হাইকোর্ট কোন অন্তবর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বিধায়কদের ভাঙ্গিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক পার্টি অফিস দখল এবং মমতাপন্থী নেতাকর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে ঘাসফুল শিবিরের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সম্প্রতি ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের উপরে থাকা বিলবোর্ড খুলতে যান কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল পুলিশও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অর্ডার কপি দেখতে চাইলে প্রথমে কেএমসির লোকেরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর বচসা শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি গড়ায় হাতাহাতিতে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার অভিযোগে এফ আই আর দায়ের হয় অভিষেক- সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার দিন রাতেই হাইকোর্টে গোটা বিষয়টি জানিয়ে মেইল করা হয় মমতাপন্থী তৃণমূলের তরফে। দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও আদালত তা ভ্রুক্ষেপ করেনি। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই নিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশও দেওয়া হয়নি। ক্যামাক স্ট্রিটের বক্তব্য ছিল, কিছু না শুনে একতরফা বিলবোর্ড খোলা হয়েছে। সেটি আবার আগের জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ব্যাঞ্চ জানায়, বিলবোর্ড যেহেতু খোলা হয়ে গিয়েছে, তাই কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ এই মুহূর্তে দেওয়া যাবে না।
এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে অভিষেকের অফিসে একদল দুষ্কৃতী তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববাংলা সংবাদ), যেখানে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন ভোরের দিকে অভিষেকের অফিসে পৌঁছে ভাঙচুর শুরু করেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয় জন গ্রেফতার হয়েছেন। শুক্রবার দমকল বিভাগ যথাযথ অগ্নি নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকার কারণে ক্যামাক স্ট্রিটের অভিষেকের দফতর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ভবনের মালিককে। এই পরিস্থিতিতে এবার সুপ্রিম কোর্টে গেল তৃণমূল। বিলবোর্ড কাণ্ডে শীর্ষ আদালত কী রায় দেয় তা জানতে আপাতত সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
















