২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের (Teachers) চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আগামী ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত তাঁরা কাজে বহাল থাকতে পারবেন। তবে একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটাই সময়সীমা বৃদ্ধির শেষ সুযোগ। ফলে চাকরির মেয়াদ বাড়ার স্বস্তি মিললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া এবং স্থায়ী সমাধান নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের (Justice Sanjay Kumar) বেঞ্চ এ দিন আগের নির্দেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ৩১ অগাস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে রাজ্যের পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার যোগ্য শিক্ষকও চাকরিতে বহাল থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের কাজে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষক মেহেবুব মণ্ডল (Protesting teacher Mehebub Mondal) জানান, শুনানির জন্য তাঁদের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের হয়ে একাধিক আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন। তাঁদের দাবি ছিল, জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হোক, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য আরও কিছুটা সময় পাওয়া যায়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে চলতে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সেই কারণেই কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি।
মেহেবুবের কথায়, সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এটাই শেষবারের মতো সময় বৃদ্ধি, তাই হাতে থাকা সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্দোলনরত যোগ্য শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান প্রয়োজন।
তাঁর আরও বক্তব্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে কোনও বৈঠক বা সরাসরি আলোচনার সুযোগ হয়নি। একাধিকবার আলোচনার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বৈঠক হয়নি বলে দাবি তাঁদের। যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপাতত আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকার নিশ্চয়তা মিলেছে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের শেষবার সময়সীমা বৃদ্ধির বার্তার পর এবার নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কত দ্রুত সম্পূর্ণ হয় এবং যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী সমাধান সামনে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।
















